দার্জিলিংয়ে পা রাখছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি কাফু! পাহাড়ে কোন মেগা ইভেন্টে যোগ দিচ্ছেন ফুটবল সম্রাট?

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক রোমাঞ্চকর খবর নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষেই পাহাড়ের রানি দার্জিলিংয়ে আসছেন ২০০২ ফিফা বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক ও ফুটবল কিংবদন্তি কাফু। প্রাক্তন এই বিশ্বখ্যাত রাইট-ব্যাক আগামী রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর দার্জিলিং পাহাড়ে একটি প্রস্তাবিত স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসোর্টের ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। তাঁর এই আচমকা সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই গোটা উত্তরবঙ্গে ফুটবলপ্রেমী ও পর্যটকদের মধ্যে চরম উন্মাদনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাফু (যাঁর পুরো নাম মার্কোস ইভানজেলিস্তা দে মোরাইস) দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘আরিয়া চা বাগান’ (Arya Tea Estate)-এ প্রস্তাবিত ‘সিদ্রা হিলস স্পোর্টস অ্যান্ড ওয়েলনেস রিসোর্ট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং প্রায় ৩০০ একর জুড়ে বিস্তৃত এই ঐতিহ্যবাহী চা বাগানটি তাদের বহুমুখী পর্যটন ব্যবসাকে আরও বেশি প্রসারিত করার অংশ হিসেবে এই বিশাল স্পোর্টস প্রজেক্টটি তৈরি করছে। প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কর্মরত এই চা বাগানটিতে এবার পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য একটি অত্যাধুনিক ক্রীড়া ও ওয়েলনেস কেন্দ্র যুক্ত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মূলত প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানটি চা বাগানের নিজস্ব ফুটবল মাঠে করার, তবে বিপুল জনসমাগম ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠানস্থল সরিয়ে লেবং-এর অপেক্ষাকৃত অনেক বড় ‘গোর্খা স্টেডিয়াম’-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার দুপুর ১টা থেকে এই জমকালো অনুষ্ঠান শুরু হবে, যেখান থেকে ফুটবল সম্রাট কাফু ভার্চুয়ালি রিসোর্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। শুধু তাই নয়, এই বিশেষ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সদ্য আত্মপ্রকাশ করা ‘দার্জিলিং ওয়ারিয়র্স এফসি’ এবং ‘নর্থ বেঙ্গল ফাইটার্স এফসি’ নামের দুটি নতুন ফুটসাল দলের শুভ সূচনাও করবেন তিনি। পাশাপাশি, দুই দলের মধ্যে একটি আকর্ষক ফুটবল ম্যাচেরও আয়োজন করা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল কর্মসূচিতে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ মন্ত্রী তাপস রায়ের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

৫৬ বছর বয়সী কাফুর এই উপস্থিতি কেবল একটি নতুন ক্রীড়া প্রকল্পের উদ্বোধনের চেয়েও অনেক বেশি আন্তর্জাতিক তাৎপর্য বহন করছে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম সফল এই খেলোয়াড় ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র অনন্য রেকর্ডধারী, যিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেছেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মোট চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ২০টি ম্যাচ খেলা কাফু ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্বর্ণালী ব্রাজিল দলের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। বিশেষ করে, তাঁরই সুদৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফাইনালে জার্মানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল সেলেসাওরা। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি কোলে এমন একজন বিশ্ববিখ্যাত ফুটবল কিংবদন্তির পদার্পণ ভারতের ক্রীড়া ও পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন ও সোনালী অধ্যায় যোগ করতে চলেছে।