বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারের শেষ লগ্নে রক্ত ঝরল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে। বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠল শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। প্রার্থীর হাত ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক কর্মীকে রক্তাক্ত করার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
র্যালি চলাকালীন অতর্কিত হামলা
মঙ্গলবার সকালে দাঁতনের হরিপুর থেকে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে একটি বিশাল মোটরবাইক র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিলটি যখন সাবড়া থেকে মোহনপুরের দিকে যাচ্ছিল, তখনই আঁতলা অঞ্চলে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আক্রান্ত প্রার্থী: বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানাকে গুরুতর আহত অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাঙচুর: প্রার্থীর গাড়ি ও কর্মীদের বেশ কিছু মোটরবাইক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
আহত কর্মী: বহু বিজেপি কর্মীকে মোহনপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।
রাজ্য সড়ক অবরোধ ও পুলিশের ভূমিকা
মিছিলে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে মোহনপুর থানার সামনে এগরা-সোলপাট্টা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলায় এলাকায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতে হয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিজেপির অভিযোগ, হারের ভয় পেয়েই তৃণমূল কংগ্রেস এলাকায় সন্ত্রাস ছড়িয়ে ভোট লুট করার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে বিজেপির ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ বা ‘নাটক’ বলে পাল্টা দাবি করেছে।
“নিশ্চিত হার জেনে তৃণমূল এখন গুন্ডাবাহিনী দিয়ে বিরোধী প্রার্থীদের শেষ করে দিতে চাইছে। সাধারণ মানুষ এর জবাব ইভিএমে দেবে।” — বিজেপি নেতৃত্ব
ভোটের আগে বড় প্রশ্ন
বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে একজন প্রার্থীর ওপর এই ধরনের হামলার ঘটনা নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার পর দাঁতন ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি নজরদারি চালাবে কি না, এখন সেটাই দেখার।





