“দলে থেকে গদ্দারি নয়, সোজা বেরিয়ে যান!” দুর্গাপুরের সভা থেকে কার উদ্দেশে বিস্ফোরক মমতা? ২. তৃণমূলে বড়সড় ‘সাফারি’র ইঙ্গিত! চতুরঙ্গ ময়দানের জনসভা থেকে কড়া সতর্কবার্তা মমতার।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘনিয়ে আসতেই দলের অন্দরে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেলে দুর্গাপুর পশ্চিমের চতুরঙ্গ ময়দানের জনসভা থেকে দলের একাংশের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দলের নীতি না মানলে বা বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে তাঁদের জন্য তৃণমূলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

মমতার সতর্কবার্তার মূল লক্ষ্য কারা? মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে নির্দিষ্ট কারও নাম না নিলেও তাঁর নিশানায় ছিলেন:

  • গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী নেতারা: জেলা স্তরে যাঁরা নিজেদের প্রভাব খাটাতে গিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, “ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখতে চাইলে দল করার দরকার নেই। দল সবার উপরে।”

  • ‘ভিতরের শত্রু’: নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে বা গুরুত্ব না পেয়ে যাঁরা তলায় তলায় বিজেপি বা অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তাঁদের উদ্দেশে তাঁর সাফ বার্তা— “যারা দু’নৌকোয় পা দিয়ে চলছেন, তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁদের ঠাঁই থাকবে না। এখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন কোন দিকে থাকবেন।”

  • দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা: তিনি কড়া ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেললে দল কোনোভাবেই তাঁদের পাশে দাঁড়াবে না।

দুর্গাপুরের সভার গুরুত্ব: শিল্পাঞ্চল হিসেবে দুর্গাপুর-আসানসোল এলাকা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই এলাকার কিছু অংশে বিজেপির উত্থান ভাবিয়ে তুলেছিল ঘাসফুল শিবিরকে। তাই ২০২৬-এর লড়াইয়ের আগে দলের সংগঠনকে ‘নিছিদ্র’ করতেই মমতার এই কড়া দাওয়াই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দলের অন্দরে প্রতিক্রিয়া: মমতার এই সোজাসাপ্টা হুমকির পর দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের টিকিট বিলির আগেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন যে—কেবলমাত্র অনুগত এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কর্মীদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy