দলবদল করলেই কেলো! মোদির প্রাতঃরাশের নেমন্তন্ন পেতেই ২০ দলত্যাগী সাংসদকে নিয়ে বড় পদক্ষেপ লোকসভার স্পিকারের!

দলত্যাগী সংসদ সদস্যদের সদস্যপদ খারিজের দীর্ঘসূত্রিতা কাটাতে অবশেষে সক্রিয় হলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ার পরই নড়েচড়ে বসল লোকসভা সচিবালয়। দলত্যাগ বিরোধী আইনের বেড়াজালে ফেঁসে গিয়ে এবার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া ২০ জন সাংসদের প্রত্যেককেই তলব করে কড়া নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের লিখিত জবাব পেশ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় রাজনীতির অন্দরে এখন অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ১৪ জুন, যখন বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ঠিক পরেই তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হওয়া ২০ জন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পৃথক দল গঠনের বিস্ফোরক চিঠি দেন। ওই দিনই সন্ধ্যার দিকে তাঁরা ত্রিপুরার ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে যোগদানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। এই দলবদলের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই ১৮ জুন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে দলত্যাগ বিরোধী আইনের ষষ্ঠ ধারার বিধান অনুযায়ী ওই ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ অবিলম্বে খারিজ করার জোরালো দাবি জানান এবং পৃথক পিটিশন দাখিল করেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল যুক্তি ছিল, যে সমস্ত প্রার্থীরা সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকচিহ্ন ও সমর্থনে লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন, তারা পরবর্তীতে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় অন্য দলে যোগ দিয়ে মানুষের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তবে স্পিকারের দপ্তর থেকে এই বিষয়ে কোনো দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এই দীর্ঘ স্থবিরতার সুযোগ নিয়ে বর্ষাকালীন অধিবেশনে ওই দলত্যাগী সাংসদরা এনডিএ জোটের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোককল্যাণ মার্গের বাসভবনে প্রাতঃরাশের আমন্ত্রণেও যোগ দেন। এমনকি এনডিএ-র মঙ্গল মিলন বৈঠকেও প্রথম সারিতে তাঁদের দেখা যায়। তবে স্পিকারের তরফে এখনও তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়ায় খাতায়কলমে তাঁরা এখনও তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই পরিগণিত হচ্ছেন।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় গত ২৭ জুলাই এবং পরবর্তীতে ১২ আগস্ট ফের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কোনো সদর্থক ফল না মেলায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হন। শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে নড়েচড়ে বসে লোকসভা সচিবালয় তাৎক্ষণিকভাবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দেব, ইউসুফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া ও সায়নী ঘোষসহ মোট ২০ জন হেভিওয়েট ও নবনির্বাচিত সাংসদকে নোটিশ পাঠিয়েছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে তাঁদের ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নোটিশের জেরে দলত্যাগী সাংসদদের ভবিষ্যৎ আইনি বেড়াজালে বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে পড়তে চলেছে।