২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় এক ফোঁটা রক্তও যেন না ঝরে, তা নিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল। অতীতে বাংলার নির্বাচনের গায়ে লাগা ‘হিংসার তকমা’ মুছতে এবার অত্যন্ত কড়া বার্তা দিলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে যেখানে প্রয়োজন পড়বে, সেখানে তিনি নিজেই সশরীরে হাজির হবেন।
হাতে গোনা বুথে ‘স্পেশাল আই’ রাজ্যে যে সমস্ত বুথে ভোট চলাকালীন বা ভোট পরবর্তী হিংসার রেকর্ড রয়েছে, সেগুলিকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে কমিশন। সিইও-র নির্দেশ অনুযায়ী:
অতীতের ইতিহাস বিচার: গত পঞ্চায়েত বা লোকসভা ভোটে যে সমস্ত এলাকায় অশান্তি হয়েছিল, সেই বুথগুলিকে ‘অতি-স্পেশাল’ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সশরীরে নজরদারি: জেলা শাসকের রিপোর্টের ওপর শুধু ভরসা না করে, কমিশনার নিজে বিভিন্ন জেলায় ঘুরবেন এবং প্রয়োজনে বুথে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।
কেন এই কড়া অবস্থান? মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতে, গণতন্ত্রের উৎসবে সাধারণ ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জাগানোই কমিশনের প্রথম কাজ। তিনি বলেন:
“শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আমাদের অগ্রাধিকার। বুথে ভোটাররা যেন নির্ভয়ে আসতে পারেন, তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, কমিশন তা-ই করবে। আমি নিজে বুথ পরিদর্শনে যাব যাতে কাজকর্মে কোনো গাফিলতি না থাকে।”
নিরাপত্তার ‘ব্লু-প্রিন্ট’ ইতিমধ্যেই রাজ্যে আসতে শুরু করেছে কয়েকশো কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশন সূত্রে খবর, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুথ পাহারায় কোনো খামতি রাখা হবে না। ওয়েবকাস্টিং-এর মাধ্যমে প্রতিটি বুথের ওপর সরাসরি নজর রাখবে কমিশনের কন্ট্রোল রুম।
মনোজ কুমার আগরওয়ালের এই ‘মাঠে নামা’-র হুঁশিয়ারি প্রশাসনিক স্তরে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরে এক বড় বার্তা পৌঁছে দিল। এখন দেখার, সিইও-র এই সক্রিয়তা ভোটের দিন বাংলার পরিস্থিতি কতটা শান্ত রাখতে পারে।





