দত্তাবাদ স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের চার্জশিটে নেই ‘দাবাং’ বিডিও-র নাম! পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ মৃতের পরিবার

দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় দানা বাঁধল নতুন রহস্য। ৯০ দিনের মাথায় বিধাননগর আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে চার্জশিট জমা দেওয়া হলেও, সেখানে নাম নেই মূল অভিযুক্ত তথা রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণের। ‘দাবাং’ হিসেবে পরিচিত এই সরকারি আধিকারিক এখনও পুলিশের খাতায় ‘ফেরার’, কিন্তু চার্জশিট থেকে তাঁর নাম বাদ যাওয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

চার্জশিটে কাদের নাম? পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে পাঁচজনের নাম রয়েছে— তুফান থাপা, রাজু ঢালি, সজল সরকার, গোবিন্দ সরকার এবং বিবেকানন্দ সরকার। উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণের পরদিন যাত্রাগাছির খাল থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি ছিল, প্রশান্ত বর্মণই এই খুনের নেপথ্যে থাকা মাস্টারমাইন্ড। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আইনি জটিলতা বা তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ‘অতিরিক্ত চার্জশিটে’ প্রশান্তের নাম যোগ করা হতে পারে।

আদালতের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ: প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট— উভয় জায়গা থেকেই আত্মসমর্পণের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্ট ৭২ ঘণ্টার সময় দিলেও তিনি ধরা দেননি। এরপর গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রশান্ত এখনও আত্মগোপন করে রয়েছেন। পুলিশের জালে তিনি ধরা না পড়লেও চার্জশিটে তাঁর নাম না থাকাটা ‘অদৃশ্য শক্তির’ খেলা বলেই মনে করছেন অনেকে।

পরিবারের আতঙ্ক ও ক্ষোভ: মৃতের পরিবারের পাশাপাশি ওই বাড়ির মালিক গোবিন্দ বাগও গভীর আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, পুলিশকে দেওয়া বয়ানে তিনি প্রশান্ত বর্মণের নাম স্পষ্ট উল্লেখ করেছিলেন। খুনের মূল কান্ডারি বাইরে থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছে পুরো পরিবার। কেন একজন ফেরার আসামিকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে, তা নিয়ে বিধাননগর পুলিশের অন্দরেও শুরু হয়েছে ফিসফাস।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy