বিধাননগরের দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলা খুনের মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়। বুধবার বিধাননগর পুলিশ আদালতে যে চার্জশিট পেশ করেছে, সেখানে রাজগঞ্জের সদ্য প্রাক্তন বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মনকে ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলায় প্রশাসনের একজন পদস্থ আধিকারিকের নাম সরাসরি জড়িয়ে পড়ায় রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পুলিশ সূত্রে খবর, পেশ করা চার্জশিটে অপহরণ, খুন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করা হয়েছে। প্রশান্ত বর্মন ছাড়াও এই মামলায় ধৃত ৫ জনের নাম অভিযুক্ত হিসেবে তালিকায় রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্ট আগেই বিডিও-র আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। ২৩ জানুয়ারির মধ্যে আত্মসমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও তিনি পলাতক থাকায় পুলিশ তাঁকে ফেরার ঘোষণা করেছে।
নীল বাতি গাড়ির রহস্য ও নৃসংশ হত্যাকাণ্ড: তদন্তে উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা কাহিনী। মেদিনীপুরের বাসিন্দা স্বপন কামিলা দত্তাবাদে সোনার ব্যবসা করতেন। গত ২৮ অক্টোবর তাঁকে দুটি গাড়িতে করে আসা দুষ্কৃতীরা অপহরণ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়িতে নীল বাতি লাগানো ছিল। এরপর ৩০ অক্টোবর নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের দাবি, ওই ফ্ল্যাটে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল এবং সেই আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি অন্য জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। বিধাননগর গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, পলাতক প্রশান্ত বর্মনের খোঁজে তল্লাশি চলছে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হতে পারে।