চৈত্র শেষের দহনজ্বালা মেটাতে স্বস্তির বৃষ্টি এলেও, এবার তা রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পের জেরে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে শুরু হয়েছে কালবৈশাখীর প্রবল তাণ্ডব। আজ এবং কাল অর্থাৎ ৭ ও ৮ই এপ্রিল পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লাল ও কমলা সতর্কতা জারি: আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে চরম দুর্যোগের আশঙ্কায় ‘লাল সতর্কতা’ (Red Alert) জারি করা হয়েছে। এছাড়া কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা ও নদিয়ায় রয়েছে কমলা সতর্কতা।
ঝড়ের গতিবেগ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা:
দমকা হাওয়া: দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকতে পারে। তবে বুধবার (৮ই এপ্রিল) এই গতিবেগ বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
শিলাবৃষ্টি: বিশেষ করে বাঁকুড়া, বীরভূম এবং দুই বর্ধমানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টির (Hailstorm) পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা আপডেট: তিলোত্তমাতেও বিকেলের পর থেকে আকাশ মেঘলা থাকবে। ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হতে পারে।
প্রশাসনের নির্দেশিকা: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ঝড়ের সময় খোলা মাঠ বা গাছের নিচে আশ্রয় না নিয়ে পাকা বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস। চাষিদের পাকা ফসল তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়।
কেন এই হঠাৎ বদল? আবহাওয়াবিদদের মতে, বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত অক্ষরেখার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। যার ফলে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্র বাতাস স্থলভাগে ঢুকছে এবং বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে এই কালবৈশাখীর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।





