দুগ্ধ চাষীদের জন্য বিরাট সুখবর! কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ডায়েরি ফার্মিংকে অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি কেরল সরকারের

দুগ্ধ চাষ ও পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত অগণিত কৃষক ও খামার মালিকদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ এবং আর্থিক সংকটের বেড়াজাল থেকে দুগ্ধ চাষীদের রক্ষা করতে কেন্দ্র সরকারের কাছে একটি বিশেষ দাবি জানানোর কথা ঘোষণা করেছেন কেরলের সমবায় ও দেবস্বম মন্ত্রী ভি. এন. বাসভান (যিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে আলোচিত)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের বহুমুখী ‘ভিবি-জি রাম জি’ (VB-G RAM G) বা ‘বিকশিত ভারত–গারंटी ফর রোজগার অ্যান্ড আজিবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্পের পরিধির মধ্যে ডায়েরি ফার্মিং বা দুগ্ধ চাষ ক্ষেত্রটিকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে জোরালো আবেদন জানাবেন।
কেরল সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের জেলা প্রশাসনিক विज्ञप्ति বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সম্প্রতি এডक्कড়ে আয়োজিত একটি জমজমাট প্রাক-বাজেট ও ব্লক স্তরের ডায়েরি সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি পেশ করেন মন্ত্রী। তিনি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং সামগ্রিক কৃষিভিত্তিক পরিকাঠামোর মূল চালিকাশক্তি হলো এই দুগ্ধ চাষী ও বিভিন্ন ডায়েরি কো-অপারেটিভ বা সমবায় গোষ্ঠীগুলি। কিন্তু বর্তমান সময়ে পশু খাদ্য, সুষম খাদ্য এবং ঘাস উৎপাদনে যে হারে লাগাতার খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে সাধারণ পশুপালক ও ক্ষুদ্র খামার মালিকদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্যই কেন্দ্রীয় স্তরে বিশেষ অনুদান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ অনুভব করছে রাজ্য প্রশাসন।
মন্ত্রী আরও জানান যে, এই শিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে পশুখাদ্য উৎপাদন, গো-পালন এবং বহু ছোট-বড় দুগ্ধ খামার। দীর্ঘ সময় ধরে লক্ষ লক্ষ পরিবার তাদের বংশপরম্পরায় এই পেশাকেই জীবিকার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ভর্তুকি প্রদান করা হলেও, সামগ্রিক উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতি রুখতে কেন্দ্রীয় বড় কোনো প্রকল্পের সাহায্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যুব সমাজকে যাতে পুনরায় এই লাভজনক ও ঐতিহ্যবাহী পেশার প্রতি আকৃষ্ট করা যায় এবং একটি টেকসই পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়, তার জন্য নীতিগত পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।