দুর্গাপুর এবং দিল্লির পর এবার দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ক্যাম্পাসে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চরম চাঞ্চল্য। সহপাঠীকে কলেজের পুরুষ শৌচালয়ে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল তারই ক্লাসমেট জীবন গৌড়ার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে ন্যক্কারজনক বিষয় হলো, ধর্ষণের পর অভিযুক্ত যুবক নির্যাতিতাকে ফোন করে গর্ভনিরোধক ‘পিল’ বা ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছিল।
বুধবার অভিযুক্ত জীবন গৌড়াকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে, আদালত তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।
কী ঘটেছিল ১০ অক্টোবর?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে গত ১০ অক্টোবর। অভিযুক্ত জীবন গৌড়া ছিলেন ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র, আর নির্যাতিতা সপ্তম সেমিস্টারের। ঘটনার পাঁচ দিন পর, ১৫ অক্টোবর নির্যাতিতা হনুমন্থনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৬৪ নম্বর ধারায় ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে।
ধর্ষণের স্থান: দুপুরের খাবারের বিরতির সময় নির্যাতিতা যখন অভিযুক্তের সঙ্গে দেখা করতে যান, তখন জীবন তাঁকে জোর করে সপ্তম তলার আর্কিটেকচার ব্লকের কাছে টেনে নিয়ে যান। সেখানেই জোর করে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়ে তিনি ষষ্ঠ তলায় একটি পুরুষদের টয়লেটে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন।
জঘন্য আচরণ: এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত টয়লেটের দরজা বন্ধ করে দেন এবং নির্যাতিতার ফোন কেড়ে নেন। ধর্ষণের পর জীবন তাঁকে ফোন করে জানতে চান, “তোমার কি ওষুধ দরকার?” (পিল বোঝাতে)।
প্রথমদিকে ভয়ে পুলিশে অভিযোগ জানাতে না পারলেও, পরে বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়ে নির্যাতিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ঘটনার পুনর্গঠন (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) করা হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতর: ‘আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে’
এই ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল বিজেপি। কর্নাটক বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোক এক বিবৃতিতে বলেছেন:
“রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। গত চার মাসে রাজ্যে ৯৭৯টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১১৪টি কেবল বেঙ্গালুরুর। চরম আতঙ্কে মহিলা ও শিশুরা। সরকারের উদাসীনতা নিন্দনীয়।”
তিনি এই বিষয়ে জাতীয় মহিলা কমিশনকে চিঠি লিখে একটি তদন্তকারী দল পাঠানোর অনুরোধ করেছেন এবং বলেছেন, “আমাদের মা-বোনেরা যখন নিরাপদ নয়, বিজেপি নীরব থাকবে না। রাজ্য সরকারকে এর জবাব দিতে হবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।”
তবে, পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল অর্থাৎ কলেজের সেই তলায় কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় প্রমাণ সংগ্রহে সমস্যা হতে পারে। বর্তমানে ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণ পরীক্ষা করা চলছে। ওই কলেজের তরফে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনা নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।