রাজনীতির ময়দানে তিনি যেমন লড়াকু, ব্যক্তিগত জীবনে তেমনই তিনি সৃষ্টিশীল ও আবেগপ্রবণ। ১৪ই ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব প্রেম দিবসে (Valentine’s Day) রাজ্যবাসীকে ভালোবাসার এক অনন্য বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রথমবার সরাসরি ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন তিনি, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
রবীন্দ্র-কাব্যে প্রেমের প্রকাশ: শনিবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী কবিতা ‘অনন্ত প্রেম’-এর কয়েকটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেন। তিনি লেখেন—
“তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার, জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।”
ভালোবাসার নতুন সংজ্ঞা: কেবল শুভেচ্ছা জানিয়েই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ভালোবাসার এক বিস্তৃত ও মহৎ সংজ্ঞাও তুলে ধরেছেন। মমতা লেখেন, ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং শ্রেণির ঊর্ধ্বে এক সর্বজনীন অনুভূতি। তাঁর মতে:
এই ভালোবাসার চেতনাই তাঁকে জনসেবার পথে চালিত করে।
মানুষের প্রতি এই ভালোবাসা ঝড় সহ্য করার মতো শক্তিশালী এবং ধৈর্যশীল।
এই ভালোবাসাই তাঁকে ন্যায়বিচার ও মর্যাদার লড়াইয়ে সাহস জোগায়।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভ্যালেন্টাইনস ডে-র এই বার্তা তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর একটি কৌশলী পদক্ষেপ। তবে কবিতার ছোঁয়ায় এবং ‘ভালোবাসা দীর্ঘজীবী হোক’—এই আহ্বানে মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টটি সাধারণ মানুষের কাছে দারুণভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া: মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্ট নিয়ে বরাবরের মতোই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে পাল্টা পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভালোবাসার কথা যখন বলছেনই, তখন এসএফআই-এর (SFI) ‘প্রেমের ইস্তেহার’ স্টলটিতেও তিনি একবার ঘুরে যেতে পারেন।
এডিটরের নোট: রাজনীতির হাজারো ব্যস্ততার মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর এই মানবিক ও কাব্যিক রূপটি পাঠকদের মন কেড়েছে। মমতার এই বার্তা কি আগামী নির্বাচনে বাংলার তরুণ প্রজন্মের ‘মন জয়’ করতে পারবে?





