পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দামের মোকাবিলায় এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের জ্বালানি ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে এবং মিতব্যয়িতার বার্তা দিতে নিজের সরকারি কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই কৃচ্ছ্রসাধন এবং জাতীয় স্বার্থে নেওয়া উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর কনভয়ের বহর ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ, বুধবার ১৩ মে থেকেই এই নয়া নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে এক বৃহত্তর জাতীয় পরিকল্পনা। সম্প্রতি এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি প্রয়োজনে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়িয়ে চলার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। আধিকারিকদের দাবি, নাগরিকদের যে সংযমের শিক্ষা তিনি দিচ্ছেন, তা নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকেই শুরু করতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি হায়দরাবাদ, ভদোদরা এবং গুয়াহাটি সফরে মোদীর কনভয়ে আগের চেয়ে অনেক কম গাড়ি দেখা গিয়েছে। এমনকি তাঁর সাম্প্রতিক গুজরাত ও অসম সফরেও এই সীমিত সংখ্যক গাড়ির নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর নিরাপত্তার বহর থেকে অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ছেঁটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তার বাইরে অতিরিক্ত কোনও গাড়ি কনভয়ে থাকবে না। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, গাড়ির সংখ্যা কমলেও প্রধানমন্ত্রীর এসপিজি (SPG) সুরক্ষা বা মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রোটোকলে কোনও আপস করা হচ্ছে না। নিরাপত্তার প্রতিটি স্তর আগের মতোই নিশ্ছিদ্র থাকবে, কেবল অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়ানো বন্ধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের হাতে একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তুলে দেওয়া হয়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় রাজ্যগুলিকে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো, ভার্চুয়াল মিটিংয়ে জোর দেওয়া এবং শক্তি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই বাংলাতেও আজ থেকে সরকারি স্তরে জ্বালানি সাশ্রয়ের এই মহাযজ্ঞ শুরু হল।





