তেল বাজারের অস্থিরতা, দামে পতন, কারণ কি আমেরিকা-চিন বাণিজ্য সংঘাত?

বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে আজ এক সতর্কতা ও উদ্বেগের পরিবেশ দেখা গেল। সোমবার সকালেই অশোধিত তেলের দাম আবার নিম্নমুখী হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের যোগান বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং আমেরিকা-চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া বাণিজ্য সংঘাত—এই দুইয়ের প্রভাবে তেলের দামে পতন ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে শক্তি বা এনার্জি-র চাহিদা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ব্রেন্ট ও WTI-এর দামে পতন
আজ দিনের প্রথম দিকে লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ২৪ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি $৬১.০৫ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ফিউচার্স-এর দামও ২১ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে $৫৭.৩৩ ডলার। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার যে সামান্য দাম বেড়েছিল, তা আজ প্রায় মুছে গেছে।

উভয় বেঞ্চমার্কই গত সপ্তাহে ২ শতাংশের বেশি দাম হারিয়েছে, যা টানা তৃতীয় সপ্তাহ ধরে পতনের ইঙ্গিত দেয়। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি-র (IEA) ২০২৬ সালে বাজারে তেলের যোগান আরও বাড়বে—এই ভবিষ্যদ্বাণীও দাম কমার অন্যতম কারণ।

ওভারসাপ্লাই এবং বাণিজ্য যুদ্ধ: জোড়া ধাক্কা
ফুজিতোমি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক তোশিতাকা তাজাওয়া জানিয়েছেন, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি উৎপাদন বাড়িয়ে দেওয়ায় ওভারসাপ্লাই বা অতিরিক্ত যোগানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি, আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক মন্দার ভয় বাড়ছে, আর এই দুই কারণেই বাজারে তীব্র বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বাণিজ্য সংঘাতের ফলস্বরূপ, গত সপ্তাহে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) প্রধান আমেরিকা ও চিনকে উত্তেজনা কমাতে আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের এই দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হলে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতির আউটপুট বা উৎপাদন ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে উভয় দেশই পণ্যবাহী জাহাজের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, যা আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলছে।

ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রাশিয়া
তেলের বাজারকে আরও জটিল করে তুলেছে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরেকটি শীর্ষ বৈঠক করতে সম্মত হয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকারকদের উপর আমেরিকা ও ইউরোপের চাপ বাড়ায়, ভারত ডিসেম্বর মাস থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি হয়তো সীমিত করতে পারে। তবে, এর ফলে চীনের জন্য কম দামে আরও বেশি তেল কেনার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানাচ্ছে ট্রেড সোর্স।

বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা-চিন বাণিজ্য সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শক্তি বা এনার্জি-র ব্যবহার কমতে পারে, বিশেষ করে শিল্প এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে—যা তেলের চাহিদার অন্যতম প্রধান চালক। আপাতত, ব্রেন্ট এবং WTI উভয়ই কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি রয়েছে, তাই বাণিজ্য আলোচনা, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং যোগানের পূর্বাভাসের উপরই এখন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের গতিবিধি নির্ভর করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy