বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে ঘনীভূত হচ্ছে কালো মেঘ। এতদিন মনে করা হচ্ছিল, শুধুমাত্র হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতাই বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের সংকট তৈরি করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গোয়েন্দা ও উপগ্রহ চিত্র যা বলছে, তা শিউরে ওঠার মতো। তেলের সংকট কেবল একটি প্রণালীর অবরোধে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন ৩৯টি ভিন্ন ভিন্ন শক্তি কেন্দ্রে সুপরিকল্পিত হামলার এক বৃহত্তর চক্রান্তের রূপ নিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট নয়টি দেশের ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি কেন্দ্রে নাশকতামূলক হামলা চালানো হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের মূল ধমনী হিসেবে পরিচিত। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বিভিন্ন দেশের রিফাইনারি, পাইপলাইন এবং তেলের কুয়োর ওপর এই চোরাগোপ্তা হামলা সরবরাহ চেইনকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যে, তা মেরামত করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়বে। পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়া মানেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী। যদি এই ৩৯টি শক্তি কেন্দ্র দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরে, তবে বিশ্ব এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে, যা গত কয়েক দশকের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই নাশকতার পিছনে কাদের হাত রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে আপাতত বিশ্ববাসী এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে।