তেল আভিভে আগুনের বৃষ্টি! ইজরায়েলের প্রধান বিমানবন্দরে আছড়ে পড়ল ইরানের মিসাইল, ধ্বংসের মুখে বেন গুরিয়ন?

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। ইজরায়েলি হামলার জবাবে এবার ইজরায়েলের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক কেন্দ্র বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর এবং তেল আভিভ শহরকে লক্ষ্য করে কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করল তেহরান। ইরানের দাবি, তাদের ছোঁড়া এক টন ওজনের শক্তিশালী যুদ্ধাস্ত্রবাহী ‘খোররামশাহর-৪’ (Khorramshahr-4) ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ইজরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘সাতটি স্তর’ ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা: হামলার সময় বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের অপেক্ষায় থাকা একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান মুখ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। একটি এল আল (El Al) বিমান রানওয়ে স্পর্শ করার মাত্র এক মিনিট আগে সাইরেন বেজে ওঠায় পুনরায় আকাশে উড়াল দেয়। বর্তমানে বিমানবন্দরের সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। ইজরায়েলি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল আভিভ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বাড়িঘর ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।

তেল আভিভে বিস্ফোরণের শব্দ: প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আজ ভোরে তেল আভিভের আকাশ মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে লাল হয়ে ওঠে। ইজরায়েলের ‘আয়রণ ডোম’ ও ‘অ্যারো’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে মরিয়া চেষ্টা চালালেও বেশ কিছু মিসাইল শহরের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হানে। এর ফলে বাসিন্দাদের দীর্ঘ সময় আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়েছে। ইরানের আইআরজিসি (IRGC) জানিয়েছে, এটি তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ, যার লক্ষ্য ইজরায়েলের অর্থনৈতিক ও সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

বিশ্বের প্রতিক্রিয়া: এই হামলার পর আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানে ‘বড় মাপের’ প্রত্যাঘাত শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রায় নিঃশেষ হওয়ার পথে। তবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইজরায়েল যদি স্থলপথে হামলার চেষ্টা করে তবে তা গোটা অঞ্চলের জন্য ‘মহাবিপর্যয়’ ডেকে আনবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy