তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেঘ? কাতারের গ্যাস ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের বারুদস্তূপে এবার সরাসরি আগুন লাগল। কাতারের অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ঘাঁটিতে ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে উচিত শিক্ষা দিতে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে হোয়াইট হাউস। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, ইরানের পরমাণু ভাণ্ডার এবং তেল রপ্তানি কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে বড়সড় সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের।
কাতার বিদেশমন্ত্রকের দাবি, ইরান তাদের এলএনজি (LNG) রপ্তানি কেন্দ্র লক্ষ্য করে ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। যার মধ্যে ৪টি প্রতিহত করা গেলেও ১টি সরাসরি আছড়ে পড়ে গ্যাস ঘাঁটিতে। কাতার এই ঘটনাকে “সব সীমা লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে গত বুধবার ইরানের বৃহত্তম গ্যাস কেন্দ্র ‘সাউথ পার্স’-এ ইজরায়েলের হামলার বিষয়ে আমেরিকা কিছুই জানত না। ইজরায়েলের সেই হামলার বদলা নিতেই ইরান কাতারের ওপর এই হামলা চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের ‘অপারেশন ইরান’ প্ল্যান:
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সূত্রে ট্রাম্পের তিনটি প্রধান পরিকল্পনার কথা জানা গেছে:
হরমুজ প্রণালী উদ্ধার: এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ইরানের অবরোধ থেকে মুক্ত করা।
খর্গ দ্বীপে হানা: ইরানের ৯০ শতাংশ তেল যেখান থেকে রপ্তানি হয়, সেই খর্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার দখল: ইরানের পরমাণু শক্তির উৎস ইউরেনিয়াম খনিগুলোর দখল নেওয়া (যদিও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা)।
উত্তেজনার আঁচ পৌঁছেছে খোদ ওয়াশিংটনেও। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের আবাসের ওপর রহস্যময় ড্রোনের আনাগোনা দেখা গেছে। আমেরিকা দাবি করেছে, তারা ড্রোনগুলিকে চিহ্নিত করতে পেরেছে, যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা: “ইরান যদি ফের ওই ঘাঁটিতে হামলা চালায়, তবে আমেরিকা এমন পদক্ষেপ করবে যা তেহরান কল্পনাও করতে পারবে না।”