তৃণমূল ভাঙার নেপথ্যে কি মমতারই ‘পাপ’? বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী

রাজ্য রাজনীতিতে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ এবং বিধায়কদের দলবদলের জোয়ারে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে শাসক দল। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তাঁর কথায়, “যে দলবদলের খেলা একদিন মমতা শুরু করেছিলেন, আজ সেই একই খেলা তাঁর বিরুদ্ধেই ফিরছে।”

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বহরমপুরের জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী বলেন, “একসময় আপনি বলেছিলেন ‘খেলা হবে’, তখন সেই খেলার আম্পায়ার ও রেফারি ছিলেন আপনি নিজেই। আজ সেই খেলোয়াররাই মাঠে আছে, শুধু রেফারি আর আম্পায়ার বদলে গিয়েছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনে করিয়ে দিয়ে অধীর বলেন, ২০১৬ সালে যেভাবে কংগ্রেসের বিরোধী আসনে বসা বানচাল করতে দলবদলকে হাতিয়ার করেছিলেন মমতা, আজ ইতিহাসই তাঁর পুনরাবৃত্তি করছে।

‘দো গজ কি দূরি’ তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের বিজেপি’র সাথে গোপন আঁতাত প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরীর মন্তব্য, “বিজেপি জানে এই নেতাদের দলে নিলে তাদের ইমেজ নষ্ট হবে, আর বিধায়করাও ভয় পাচ্ছেন যে বিজেপিতে সরাসরি যোগ দিলে মুসলিম ভোটাররা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করবে। তাই এখন তাঁরা বিজেপি থেকে ‘দো গজ কি দূরি’ (দুই গজের দূরত্ব) বজায় রেখে চলছেন।” তবে শেষ পর্যন্ত এই বিধায়করা যে বিজেপি’র ইশারাতেই উঠবস করছেন, তা স্পষ্ট বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা।

তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তৃণমূলের এই দুরবস্থাকে ‘তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া’ বলে অভিহিত করেছেন অধীর। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শাসক দলের প্রায় ৫২ শতাংশ বিধায়ক বিদ্রোহী হওয়ায় রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় যে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।

স্মৃতিমেদুর অধীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা টেনে অধীর বলেন, যেভাবে নব্বইয়ের দশকে সোমেন মিত্রকে অপমান করে মমতা কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল তৈরি করেছিলেন, আজ নিজের দলের ভাঙনের মাধ্যমেই যেন সেই ইতিহাসের চক্রাকার পুনরাবৃত্তি দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy