তৃণমূল ভাঙন: এনডিএ-তে যোগ দিতে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি’-তে নাম লেখাতে পারেন বিদ্রোহীরা?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ এখন আর কেবল দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। সূত্রের খবর, বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে নাম না লিখিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটছেন। এই দলের নাম হতে পারে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি’। মূলত পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ত্রিপুরা—এই তিন রাজ্যকে কেন্দ্র করেই তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে বলে শোনা যাচ্ছে।

আইনি জটিলতা কাটাতে নতুন কৌশল রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন দল গঠনের পিছনে একটি বড় কৌশল রয়েছে। লোকসভার বর্তমান দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী, তৃণমূল থেকে সরাসরি বেরিয়ে এসে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। আইন ও আইনি জটিলতা কাটাতে এবং সংসদীয় দল হিসেবে এনডিএ-র সমর্থন পাওয়ার পথ সুগম করতেই এই বিকল্প পথের সন্ধান করছেন বিদ্রোহী সাংসদরা।

দিল্লিতে একের পর এক গোপন বৈঠক রবিবার এই নতুন সমীকরণ ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাতের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বিদ্রোহীদের এক গোপন বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষের মতো নেতারা। এমনকি বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের উপস্থিতিও এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। কাকলী ঘোষ দস্তিদারের দাবি, বর্তমানে তাঁদের সঙ্গে ২২ জন সাংসদ রয়েছেন, যা তৃণমূলের সংসদীয় দলের শক্তিতে বড় ফাটল ধরাতে পারে।

পাল্টা চালে অভিষেক অন্যদিকে, ভাঙন রুখতে মরিয়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবারই স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি তিন পাতার চিঠি পাঠিয়েছেন। রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদের মাধ্যমে পাঠানো সেই চিঠিতে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূল একটিই এবং অখণ্ড রাজনৈতিক দল। দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কোনো পৃথক গোষ্ঠীকে যাতে স্পিকার স্বীকৃতি না দেন, সেই আর্জিই জানানো হয়েছে।

তৃণমূলের সংসদীয় দলের এই ভাঙন এবং নতুন দলের গঠন প্রক্রিয়া আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন রাজনৈতিক মহল।