“তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনি হবে!” প্রকাশ্য সভায় চরম হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের, এবার কি কড়া পদক্ষেপ নেবে কমিশন?

নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনীতির পারদ। এবার খাস কলকাতায় রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা এবং পরবর্তীতে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের উস্কানিমূলক মন্তব্য ঘিরে রণক্ষেত্র রাজ্য রাজনীতি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দিলীপের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) ও কড়া শাস্তির দাবিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

গত শনিবার কলকাতার গিরীশ পার্কে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার রেশ টেনে দিলীপ ঘোষ মেজাজ হারিয়ে বলেন, “তৃণমূলের গুন্ডাগিরি অনেক সহ্য করেছে মানুষ। এবার সব জায়গায় তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনি হবে। কলকাতায় যদি আমরা ঠুকতে পারি, তবে সারা বাংলায় ঠুকব। শশী পাঁজার বাড়িতে অ্যাটাক হলে কালীঘাটেও (মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি) অ্যাটাক হতে পারে। ভোটের আগে এটা হবেই, জেনে রাখুন।”

দিলীপের এই সরাসরি “হামলা” ও “গণপিটুনি”র হুমকিকে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ (MCC) হিসেবে দেখছে শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, দিলীপ ঘোষ রাজ্যে দাঙ্গা ও অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করছেন। অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করার দাবি জানিয়েছে তারা। ইতিমধেই গিরীশ পার্কের অশান্তি নিয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

“ভগবানও বাঁচাতে পারবে না!” – দমে যাওয়ার পাত্র নন দিলীপ:
বৃহস্পতিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে চেনা মেজাজেই ধরা দেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ। কমিশনের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্রুপের সুরে তিনি বলেন, “ওদের অভ্যাস যায়নি দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মেসোমশাইয়ের (কমিশন) কাছে নালিশ করার। কোর্টে যান বা কমিশনে, কিছু লাভ হবে না। ওরা এখন হাতজোড় করে বলছে— দিলীপ ঘোষের থেকে আমাদের বাঁচান। কিন্তু এবার ভগবানও বাঁচাতে পারবে না।”

বিজেপির অভিযোগ, ব্রিগেডের সভা থেকে ফেরার পথে তাঁদের কর্মীদের বাসে তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা হিসেবেই মন্ত্রীর বাড়িতে এই উত্তেজনা তৈরি হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই “কালীঘাট অ্যাটাক” মন্তব্য আদতে ভোটারদের মেরুকরণ এবং শাসকদলকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখার একটি কৌশল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy