তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার রাজনৈতিক মহল। নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই মহুয়া দাবি করেছেন, “তৃণমূল সমর্থক না হলে কেউ প্রকৃত বাঙালি হতে পারেন না।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই মন্তব্যকে ‘স্বৈরাচারী’ এবং ‘বিভেদকামী’ বলে আখ্যা দিয়ে মহুয়াকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মহুয়া মৈত্রর এই মানসিকতা কার্যত অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি ভাবধারার প্রতিফলন। বিজেপি নেতাদের দাবি, তৃণমূল নেত্রী বোঝাতে চাইছেন যে বাংলায় থাকতে হলে তাঁদের দলকেই সমর্থন করতে হবে, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “মহুয়া মৈত্র বাঙালি জাতির অপমান করেছেন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল বা বিবেকানন্দের বাংলায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুগত্য দিয়ে বাঙালি পরিচয় বিচার করা যায় না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে এই মন্তব্য তৃণমূলের জন্য বুমেরাং হতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এবং বিরোধী সমর্থকদের মধ্যে এই মন্তব্য বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও তৃণমূলের একাংশ দাবি করছে, মহুয়ার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তবে বিতর্কের আগুন থামার কোনো লক্ষণ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশও প্রশ্ন তুলেছেন—বাঙালি পরিচয় কি এখন কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্ট্যাম্পে আটকে থাকবে? এই মন্তব্যকে ঘিরে এখন আড়াআড়ি বিভক্ত নেটপাড়া ও রাজনৈতিক ময়দান।