লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হতে বাধা দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলার নারীশক্তির দোহাই দিয়ে তৃণমূল যে রাজনীতি করছে, তা আসলে মহিলাদের ক্ষমতায়নের পরিপন্থী— এভাবেই এদিন কড়া সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের এই ‘নারী-বিরোধী’ অবস্থানের যোগ্য জবাব দেবেন।
মোদীর আক্রমণের মূল পয়েন্টগুলি:
সংরক্ষণ বিরোধী তকমা: প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার যখন মহিলাদের হাতে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা তুলে দিতে সংরক্ষণ বিল আনতে চায়, তখন তৃণমূল সেই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে নিজেদের আসল রূপ প্রকাশ করে দিয়েছে।
ভণ্ডামির অভিযোগ: মোদীর কথায়, “মুখে মহিলারা সুরক্ষিত বলে দাবি করলেও, তৃণমূল আসলে চায় না মহিলারা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠুক। ক্ষমতার লোভেই তারা এই ঐতিহাসিক বিল পাসে বাধা দিচ্ছে।”
সন্দেশখালি ও নারী নিরাপত্তা: নাম না করে সন্দেশখালি ইস্যুকে ফের উসকে দিয়ে মোদী জানান, বাংলার মহিলারা এখন আর বোকা নেই। তাঁরা নিজের অধিকার এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে কাউকেই রেয়াত করবেন না।
ভোটের আগে বড় ইস্যু:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর আগে মহিলা ভোটারদের মন জয় করতে বিজেপি ‘সংরক্ষণ বিল’ আটকে যাওয়ার দায় সরাসরি তৃণমূলের কাঁধে ঠেলে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিল আটাকানো মানে বাংলার কয়েক কোটি মহিলার স্বপ্নকে অপমান করা।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব:
তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা দাবি করা হয়েছে যে, তাদের দলে এমনিতেই মহিলা জনপ্রতিনিধির সংখ্যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। বিজেপি কেবল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর অভিযোগ তুলছে।
উপসংহার:
সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে এই লড়াই এখন বাংলার পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘গ্যারান্টি’ কি সত্যিই তৃণমূলের মহিলা ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাতে পারবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।





