ভোটের বাদ্যি বাজতেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলাকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধছে নতুন রহস্য। বারবার ‘একলা চলো’ নীতি এবং নিজের দলের শক্তিতে ১৮২ আসনে লড়ার হুঙ্কার দিলেও, ভেতরে ভেতরে কি কিছুটা হলেও চাপে হুমায়ুন কবীর? প্রশ্নটা উঠছে কারণ, মুখে একার শক্তির কথা বললেও কার্যত বিভিন্ন মহলে সহযোদ্ধা খুঁজে বেড়াচ্ছেন তিনি। কখনও সেলিম, কখনও মিম, আবার কখনও নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ—জোটের অঙ্কে কাউকেই বাদ দিতে চাইছেন না তিনি।
তবে এরই মাঝে এক বিস্ফোরক দাবি করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, যে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে একসময় ‘অপমান’ করে তাড়িয়েছিল, সেই তৃণমূলের অন্দর থেকেই নাকি এখন আসছে আসন সমঝোতার প্রস্তাব! হুমায়ুন কবীর সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, প্রশাসন এবং তৃণমূলের কিছু ‘দালাল’-এর মাধ্যমে তাঁর কাছে সমঝোতার বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
হুমায়ুনের কথায় ঝাঁঝ ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, “তৃণমূল আমাকে যথেষ্ট অপমান করেছে। এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় অনেকে বলছে আসন সমঝোতা করতে। কিন্তু মনে রাখবেন, আমার দলের জন্মই হয়েছে তৃণমূলকে হঠাতে। মানুষ সময়মতো এর যোগ্য জবাব দিয়ে দেবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা মিত্র বলে কিছু হয় না। হুমায়ুন কবীর একদিকে যেমন বাম নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখছেন, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রস্তাব নিয়ে করা তাঁর এই দাবি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সত্যিই কি শাসকদল তাঁকে গুরুত্ব দিচ্ছে, নাকি এটি হুমায়ুনের একটি রাজনৈতিক কৌশল? তিনি শেষ পর্যন্ত কার হাত ধরবেন, আর তার ফলে কার ভোটব্যাঙ্কে ধস নামবে—তার উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।