তৃণমূল ছেড়ে এবার এনসিপিআই-এর পথে বিদ্রোহী সাংসদরা! লোকসভায় বদলে গেল সমীকরণ, কে এগিয়ে?

বঙ্গ রাজনীতিতে বর্তমানে সবথেকে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে ‘ন্যাশানালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)। তৃণমূল কংগ্রেসের একগুচ্ছ বিদ্রোহী সাংসদের দলবদলের সিদ্ধান্তে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। গতকালই এই সাংসদরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, তাঁরা তৃণমূলে কোনো নতুন ব্লক তৈরির পরিবর্তে সরাসরি এনসিপিআই-তে যোগ দিচ্ছেন। এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে লোকসভায় বিভিন্ন দলের আসন সংখ্যায় ব্যাপক রদবদল ঘটেছে, যা এখন সংবাদ শিরোনামে।
এনসিপিআই-এর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি গ্রাফিক্স অনুযায়ী, লোকসভার আসন সংখ্যার বিচারে এখন নতুন এই দল এনসিপিআই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাদের আসন সংখ্যা ২০। এর ঠিক পরেই রয়েছে বিজেপি, যাদের আসন সংখ্যা ১২। এরপরই রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (৮), কংগ্রেস (১) এবং একটি আসন বর্তমানে শূন্য। তবে এই নতুন শক্তির উত্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গভীর জল্পনা।
রবিবার বিকেলে দিল্লির বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের একটি জরুরি বৈঠক হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়দের মতো সাংসদরা এনসিপিআই-তে মিশে যাওয়ার জন্য লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী এনসিপিআই কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়। এটি ২০২৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এবং বর্তমানে অসমের কিছু অংশে তাদের সামান্য উপস্থিতি রয়েছে। সবথেকে কৌতূহলের বিষয় হলো, নির্বাচন কমিশনের খাতায় এনসিপিআই-এর দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার আন্দুলের একটি জায়গার উল্লেখ রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদরা নামেমাত্র দল বদলালেও, কার্যত তাঁরা বাংলারই একটি দলের আশ্রয়ে আশ্রয় নিলেন। ২০২২ সালে দলটি নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। উত্তরবঙ্গে এই দলের সক্রিয়তা বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে এবং ‘পেনের নিব’ ঘেরা সাতটি রশ্মির প্রতীক নিয়ে তারা নির্বাচনে লড়ে থাকে।
তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন এবং এনসিপিআই-এর প্রতি সাংসদদের এই ঝোঁক আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে এটাও স্পষ্ট যে, লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি হ্রাস পাওয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেল।