বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের সুর প্রবল হয়ে উঠেছে। বুধবার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি সরাসরি দাবি করেছেন, “বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একবার সবুজ সংকেত দিলে তৃণমূল রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে না। দলের ৫০ জন বিধায়ক বর্তমানে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন।” সৌমিত্রর এই সুনির্দিষ্ট সংখ্যাতত্ত্বকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে অন্তত ২০ জন সাংসদের প্রয়োজন, আর সেই হিসেবেই বিজেপি রণকৌশল সাজাচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে সৌমিত্র খাঁ এদিন আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “উনি একজন পাপী এবং পাপীদের জেলে যেতেই হবে। আজ ওঁর বাড়ির সামনে বুলডোজার দাঁড়িয়ে আছে। ২০২১ সালে উনি বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভেঙেছিলেন, আজ সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে।” যদিও এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার’ বলে খারিজ করে দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়।
তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা যে চরমে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পরেই, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন একটি বৈঠকে বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ককে নিয়ে কাকলির উপস্থিতি রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এর পরপরই কেন্দ্রের তরফে তাঁকে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ায় দলের অন্দরে গুঞ্জন আরও তীব্র হয়েছে। অন্যদিকে, পুরবোর্ডগুলির ধস রুখতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের ইস্তফা না দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য আরজি জানিয়েছেন। মেয়র ফিরহাদ হাকিমও পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন বিগত জমানার আর্থিক অনিয়ম তদন্তে কোমর বেঁধে নেমেছে। দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে গত সপ্তাহেই ৩ জন কাউন্সিলর গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে রাজ্যজুড়ে পুরবোর্ডগুলিতে গণ-ইস্তফার হিড়িক পড়েছে। প্রায় ১০০ জন কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, যেসব পৌরসভা অচল হয়ে পড়ছে, সেখানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূলের এই অস্তিত্বের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কপালে কী লেখা আছে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন উত্তাল।





