২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এক বড়সড় রাজনৈতিক চাল চালল ভারতীয় জনতা পার্টি। তৃণমূল কংগ্রেসের গত ১৫ বছরের শাসনকালকে ‘ব্যর্থ’ এবং ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে এক দীর্ঘ ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার কলকাতায় এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে শাহ দাবি করেন, এই চার্জশিট কোনো রাজনৈতিক কল্পনা নয়, বরং ১৫ বছরের অপশাসনের প্রামাণ্য দলিল।
চার্জশিটে প্রধান অভিযোগগুলি কী কী? বিজেপির এই চার্জশিটে মূলত তিনটি স্তরে আক্রমণ শানানো হয়েছে—দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা এবং অনুপ্রবেশ। শাহের অভিযোগ, “শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে রেশন এবং কয়লা—সবক্ষেত্রেই তৃণমূলের শাসনে লুঠতরাজ চলেছে।” চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে যে, সরকারি প্রকল্পের টাকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর বদলে পৌঁছেছে ‘ভাইপো’ এবং স্থানীয় সিন্ডিকেট নেতাদের পকেটে।
আইনশৃঙ্খলা ও অনুপ্রবেশ ইস্যু: অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে সন্দেশখালি থেকে শুরু করে আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “বাংলার মা-বোনেরা আজ সবচেয়ে বেশি অসুরক্ষিত। তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে রাজ্যের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে এবং সীমান্ত দিয়ে অবাধে অনুপ্রবেশ ঘটছে।” চার্জশিটে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, তৃণমূলের আমলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে এবং বেকার যুবক-যুবতীরা ভিন রাজ্যে কাজ করতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার পাল্টা জবাব: তৃণমূলের ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’র অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিয়ে শাহ পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, ইউপিএ সরকারের তুলনায় এনডিএ সরকার বাংলাকে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়েছে। কিন্তু সেই টাকা রাজ্য সরকার ‘সঠিকভাবে খরচ করতে পারেনি’ বা ‘হজম করে ফেলেছে’ বলে তাঁর দাবি।
এই চার্জশিট প্রকাশের মাধ্যমে বিজেপি মূলত নির্বাচনী রণকৌশল স্পষ্ট করে দিল। অমিত শাহের হুঁশিয়ারি, “এই চার্জশিট কেবল কাগজের নথি নয়, এটি বাংলার মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।” এর পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেস কী প্রতিক্রিয়া দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।