তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় তুঙ্গে চড়ালেন বিজেপি প্রার্থী তথা পরিচিত সাংবাদিক সন্তু পান। রবিবার এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে ‘ভাঁওতাবাজি’র গুরুতর অভিযোগ আনলেন তিনি। হাতে নাতে প্রমাণ নিয়ে সন্তু দাবি করেন, উত্তরপাড়া থেকে তারকেশ্বর—গোটা হুগলি জেলার আলু চাষিরা আজ চরম সংকটে, অথচ সরকার কেবল মিথ্যে পরিসংখ্যান দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
সন্তু পান অভিযোগ করেন, আলু চাষিদের জন্য হিমঘরের যে ভাড়ার কথা সরকার বলছে, বাস্তবে চাষিরা তার থেকে অনেক বেশি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড এবং কৃষি ঋণের নামে গ্রামীণ ব্যাংকগুলোতে যে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি চলছে, তার নথিও এদিন পেশ করেন তিনি। সন্তুর কথায়, “চাষিরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলাচ্ছেন, আর ফড়ে ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে লাভের গুড় খাচ্ছে শাসক ঘনিষ্ঠরা। আমার কাছে প্রমাণ আছে কীভাবে ভর্তুকির টাকা সাধারণ চাষির বদলে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে যাচ্ছে।”
তারকেশ্বরের বিজেপি প্রার্থীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ দেখে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তবে তারকেশ্বরের প্রতিটি আলু চাষির বকেয়া মেটানো হবে এবং বিমা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা হবে। সন্তুর এই ‘তথ্যভিত্তিক’ আক্রমণ সামলাতে এখন কালঘাম ছুটছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। নির্বাচনের ঠিক আগে কৃষকদের এই ক্ষোভ শাসক দলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।