“তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে, খেলা শেষ!” মা তারার মাটিতে দাঁড়িয়ে মমতাকে চরম হুঁশিয়ারি মোদীর

২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের পুণ্যভূমি থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মা তারার আশীর্বাদ নিয়ে এদিন সিউড়ির জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কার্যত ধুয়ে দিলেন শাসক শিবিরকে। মোদীর উপস্থিতিতে এদিন সিউড়ির সভাস্থলে উপচে পড়া ভিড় যেন বীরভূমের রাজনৈতিক সমীকরণে বদলের ইঙ্গিত দিল।
‘পাপের ঘড়া পূর্ণ’ কটাক্ষ: তৃণমূল সরকারকে সরাসরি ‘জঙ্গলরাজ’ বলে তোপ দেগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলার মানুষ আর এই অত্যাচার সহ্য করবে না। বীরভূমের বালি থেকে পাথর— সর্বত্রই লুটের কারবার চলছে। তৃণমূলের পাপের ঘড়া এখন কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে, এবার তাদের বিদায় নেওয়ার পালা।” তাঁর দাবি, বাংলার সাধারণ মানুষের টাকা চুরি করে যারা রাজপ্রাসাদ বানাচ্ছে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।
মোদীর গ্যারান্টি ও বীরভূম: এদিন বীরভূমের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরে মোদী বলেন, “এই মাটি ত্যাগের মাটি, এই মাটি সাহসের মাটি। কিন্তু তৃণমূল এখানে কেবল ভয়ের রাজনীতি কায়েম করেছে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বীরভূমকে সিন্ডিকেট রাজ থেকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
উপচে পড়া ভিড় নিয়ে আত্মবিশ্বাস: সিউড়ির জনসভায় এদিন তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ভিড় দেখে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই জনসমুদ্রই বলছে বাংলা এবার আসল পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। মমতা দিদি ভয় পেয়েছেন বলেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে গালি দিচ্ছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের আশীর্বাদই বিজেপির বড় শক্তি।”
রাজনৈতিক গুরুত্ব: অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূমে তৃণমূলের যে সাংগঠনিক টানাপোড়েন চলছে, তার পূর্ণ সুযোগ নিতে চায় গেরুয়া শিবির। মোদীর আজকের এই সভা সেই লক্ষ্যেই একটি বড় মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।