পশ্চিমবঙ্গের শান্ত গ্রামে এখন ম্মশানের নিস্তব্ধতা। ঘটনার বীভৎসতা এতটাই যে, স্থানীয়রা বলছেন এমন দৃশ্য তাঁরা এর আগে কখনও দেখেননি। সম্প্রতি এক বৃদ্ধার মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য—এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে খোদ বৃদ্ধার জামাই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত ও শিরশ্ছেদ করা দেহটি যখন উদ্ধার হয়, তখন গোটা গ্রাম ক্ষোভে ফেটে পড়ে। অভিযুক্ত জামাইকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে হত্যার প্রকৃত মোটিভ নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য। প্রাথমিক তদন্তে দুটি দিক উঠে আসছে—সম্পত্তির লোভ এবং কালাজাদু বা তন্ত্রসাধনা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই অশুভ শক্তির আরাধনা বা তুকতাকের সাথে যুক্ত ছিল। অন্যদিকে, পরিবারের দাবি, সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে আগে থেকেই বিবাদ ছিল।
এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “সন্ধে নামলেই এখন গ্রাম ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ভয়ে কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে পারছে না।” পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পরিকল্পিতভাবেই এই খুন করা হয়েছে। দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করার পদ্ধতি দেখে মনে করা হচ্ছে এটি কোনো বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে ধৃতকে জেরা করে খুনের আসল কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা এবং এর পেছনে অন্য কোনো তৃতীয় ব্যক্তির হাত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা।