তীর্থক্ষেত্রে মর্মান্তিক পরিণতি! বদ্রীনাথের পবিত্র তপ্ত কুণ্ডে স্নান করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই বোন!

বিখ্যাত হিন্দু তীর্থস্থান ও চারধামের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বদ্রীনাথ ধাম থেকে একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক খবর সামনে এসেছে। রাজস্থানের ভিলওয়াড়া জেলা থেকে পুণ্যলাভের আশায় আসা দুই বয়স্কা মহিলা ভক্ত শুক্রবার সকালে বদ্রীনাথ মন্দিরের বিখ্যাত তপ্ত কুণ্ডে পুণ্যস্নান করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন। সম্পর্কে তাঁরা দুজনেই দুই বোন ছিলেন এবং পবিত্র বদ্রীনাথ ধামে বিশেষভাবে আয়োজিত ভাগবত কথা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্ত থেকে প্রাপ্ত অনুমান অনুযায়ী, তপ্ত কুণ্ডের অতিরিক্ত গরম জলে একটানা দীর্ঘক্ষণ নিমজ্জিত থাকার ফলে শরীরে অক্সিজেনের তীব্র অভাব বা অন্য কোনো আকস্মিক শারীরিক জটিলতার কারণে এই করুণ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
বদ্রীনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহাদেব উনিয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, রাজস্থানের ভিলওয়ারা থেকে পুণ্যার্থীদের একটি দল গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর বদ্রীনাথ ধামে এসে পৌঁছায়। এই ভক্ত দলের চারজন মহিলা ও একজন পুরুষ সদস্য শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পবিত্র ভগবান বদ্রিবিশালের দর্শন লাভ করার মানসে মূল মন্দির চত্বরে আসেন। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রার্থনা নিবেদনের আগে, দলের পুরুষ ভক্ত অমর চন্দ্র শর্মা পুরুষদের জন্য নির্ধারিত উষ্ণ প্রস্রবণে স্নান করতে চলে যান, আর অপর চারজন মহিলা ভক্ত মহিলাদের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত আলাদা উষ্ণ প্রস্রবণে স্নান করতে প্রবেশ করেন।
সেখানে উপস্থিত অন্য দুই মহিলা ভক্ত ভগবতী ও সোনির প্রত্যক্ষ বিবরণ অনুযায়ী, একসঙ্গে স্নান করার সময় অমর চন্দ্র শর্মার স্ত্রী রামু দেবী (৭১) এবং তাঁর নিজের বোন তথা মদন লাল শর্মার স্ত্রী প্রেম দেবী (৬৩)—উভয়েই পরম ভক্তিভরে ভগবানের নাম জপ করতে করতে উষ্ণ পুকুরের জলে একটানা ১০৮ বার ডুব দিচ্ছিলেন। কিন্তু সর্বাধিকবার ডুব দেওয়ার ওই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার সময়ই দুই প্রৌঢ়া মহিলা হঠাৎ করেই অতিরিক্ত গরম জলের মধ্যে সংজ্ঞাহীন হয়ে লুটিয়ে পড়েন। এই ভয়ানক দৃশ্যটি দেখতে পেয়ে পাশেই থাকা অন্য মহিলা পুণ্যার্থীরা ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন এবং তৎক্ষণাৎ তাঁদের মুমূর্ষু অবস্থায় জল থেকে টেনে ওপরে তোলেন।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুই মহিলাকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান এবং সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর (CPR) দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এরপরেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁদের অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বদ্রীনাথের স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁদের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দুজনেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ পঞ্চনামা সম্পন্ন করে উভয় মৃতদেহ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং এই ঘটনার সাপেক্ষে সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু করেছে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি সুদূর রাজস্থানের ভিলওয়াড়া থেকে আসা তীর্থযাত্রী দল এবং মৃতদের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।