ড. ইউনুসের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল! ৬৬৬ কোটি টাকার কর ফাঁকির মামলায় আদালতের বিরাট ধাক্কা!

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ‘গ্রামীণ ওয়েলফেয়ার’-এর বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর রায় ঘোষণা করেছে দেশের উচ্চ আদালত। আয়কর ফাঁকি সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চাঞ্চল্যকর মামলায় আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট রায় দেওয়া হয়েছে যে, গ্রামীণ ওয়েলফেয়ারের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ সরকার এখন অতি সহজেই ওই সংস্থার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিভিন্ন উৎস থেকে বকেয়া ৬৬৬ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে আদায় করতে পারবে। যদিও গ্রামীণ ওয়েলফেয়ার এনজিওর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চালাবে এবং আপিল করবে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান মিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেছেন। রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ড. ইউনূসের এই এনজিওটি ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব বা কর জমা দেয়নি, যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং অপরাধমূলক। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য আদালত মাত্র ৩০ দিন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
কেন এই আইনি পদক্ষেপ?
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৪ সালে। সেসময় বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ টেলিকম নামক অপর একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান থেকে বিশাল অঙ্কের তহবিল গ্রামীণ ওয়েলফেয়ারে স্থানান্তর করেন। আর ঠিক এই আর্থিক লেনদেনের পরেই নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা আয়কর কর্তৃপক্ষ। সংস্থার জোরালো দাবি ছিল যে, তহবিল স্থানান্তরের এই গোটা প্রক্রিয়ার পর গ্রামীণ ওয়েলফেয়ার কর্তৃপক্ষ সরকারকে আইনানুগ কর পরিশোধ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়। যার ফলে প্রথম দফায় কোম্পানিটির ওপর ৫৫০ কোটি টাকার কর ধার্য করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সুদ ও অন্যান্য বকেয়া মিলিয়ে সেই জট পাকানো করের পরিমাণ বর্তমানে এক লাফে বৃদ্ধি পেয়ে বিশাল অংকের ৬৬৬ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ওয়েলফেয়ার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেসময় শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে এই এনজিওটি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন নীতিগত ও আর্থিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সমর্থন লাভ করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরই এনজিওটির বিরুদ্ধে এই আর্থিক দুর্নীতির মামলাটি দায়ের করা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই হাইকোর্টের রায়ের ফলে চরম আইনি সংকটে পড়েছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মূলত স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গ্রামীণ ওয়েলফেয়ার এবং বর্তমানে সারা দেশজুড়ে এই সংস্থার প্রায় ১৫০টি উন্নত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্লিনিক পরিচালিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের জন্য এটি একটি অন্যতম বড় ধাক্কা। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূস দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন দল জয়লাভ করার পর তারিক রহমান দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, এরপর থেকেই ড. ইউনূসকে কোণঠাসা করার একটি প্রবণতা শুরু হয়েছে এবং বর্তমান সরকারের আমলেই তার নেওয়া একাধিক পূর্বের নীতিগত সিদ্ধান্ত একে একে বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। এখন গ্রামীণ ওয়েলফেয়ারের বিরুদ্ধে এই আইনি কোপ ইউনূসপন্থীদের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এক বিরাট দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।