২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে এক অভাবনীয় মোড় নিয়ে এল ভারতীয় জনতা পার্টি। বুধবার রাতে প্রকাশিত বিজেপির তৃতীয় দফার ১৯ জন প্রার্থীর তালিকায় উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর নাম। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়বেন আরজি কর হাসপাতালের সেই অভিশপ্ত রাতের শিকার, তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। গত বছর আরজি কর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে জনরোষ আছড়ে পড়েছিল রাজপথে, তাকেই এবার সরাসরি নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত করল গেরুয়া শিবির।
জল্পনার অবসান, আন্দোলনের নতুন মঞ্চ: আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই পানিহাটির বাসিন্দা ওই পরিবারটি বিচার পাওয়ার দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, নির্যাতিতার মা সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। বুধবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিলমোহর পড়ার পর সেই জল্পনা সত্যিতে পরিণত হলো। রত্না দেবনাথ জানিয়েছেন, মেয়ের বিচার পাওয়ার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিজেপির ১৯ জনের তালিকায় অন্য কারা? বুধবার প্রকাশিত তালিকায় পানিহাটি ছাড়াও আরও ১৮টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলি হলো— কোচবিহার দক্ষিণে রথীন্দ্রনাথ বোস, শান্তিপুরে স্বপন দাস এবং চুঁচুড়াতে সুবীর নাগ। এখনও পর্যন্ত ১৯টি আসনে প্রার্থীর নাম বাকি রেখেছে বিজেপি। এই আসনগুলিতে তৃণমূলের হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে বিশেষ রণকৌশল নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্যাতিতার মা-কে প্রার্থী করা বিজেপির একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত ‘ইমোশনাল মাস্টারস্ট্রোক’। এর ফলে পানিহাটি কেন্দ্রটি কেবল একটি সাধারণ বিধানসভা আসন নয়, বরং আরজি কর কাণ্ডের বিচারের প্রতীক হয়ে উঠল। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পানিহাটিতে এই ‘আবেগ’ কতটা ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। শাসক দল এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে লড়াই যে এবার অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।