তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা! বালিগঞ্জের আবাসনে চরম দুর্ভোগ, CESC-র কর্মীদের দেখা নেই!

রাতভর অতিভারী বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট জল-যন্ত্রণা শহর কলকাতা থেকে পুরোপুরি না কাটতেই, এক ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বালিগঞ্জের বাসিন্দারা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা পিয়ালী শূর-সহ তাঁর আবাসনের একাধিক ফ্ল্যাট প্রায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
সোমবার রাত থেকে ভোগান্তি
বালিগঞ্জের 6B অনিল মৈত্র রোড-এর এই আবাসনে চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। জানা গিয়েছে, সোমবার রাত তিনটের সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটা বেজে গেলেও এখনও বিদ্যুৎ ফেরেনি।
আবাসনের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়:
জলের সমস্যা: বিদ্যুতের অভাবে জলের পাম্প চলছে না। ফলে পানীয় জল এবং বাথরুমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাসিন্দাদের কেনা জলের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
যোগাযোগের সমস্যা: আবাসনের মাত্র একটি ফ্ল্যাটে, যা আলাদা মিটারের অধীনে, একটি ঘরে বিদ্যুৎ রয়েছে। সেই ফ্ল্যাট থেকেই মোবাইল চার্জ দেওয়ার মতো জরুরি কাজ চলছে।
CESC-এর ভূমিকা: স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা CESC-কে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনো কর্মী ঘটনাস্থলে আসেননি বলে অভিযোগ করেছেন অধ্যাপিকা পিয়ালী শূর।
কলকাতা জুড়ে জল-বিদ্যুতের দুর্যোগ
সোমবার রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় জল জমে গিয়েছিল। গঙ্গার লকগেট বন্ধ থাকায় জল নামতে সময় নেয়। পুর প্রশাসনের চেষ্টা সত্ত্বেও জলযন্ত্রণা পুরোপুরি কাটেনি। এই দুর্যোগের মধ্যেই বালিগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন থাকার ঘটনায় নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃষ্টি থামলেও বিদ্যুৎহীন এই আবাসনগুলির দুর্ভোগ কবে কাটবে, সেই দিকেই এখন সকলের নজর।