বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠিত হতেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আকাশে জমে থাকা মেঘ কাটতে শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপড়েন সরিয়ে এবার ফের পুরোদমে ভিসা পরিষেবা চালু করার পথে হাঁটল ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসা সহ অন্যান্য সব ধরণের ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে।
তারেক রহমানের জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি দুই দেশের বন্ধুত্বের নয়া ইঙ্গিত দিয়েছিল। এবার সেই সম্পর্ককে মজবুত করতেই ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে দিল্লি। সিলেটে ভারতের কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, “সম্পূর্ণভাবে সব ধরনের ভিসা পরিষেবা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।” বর্তমানে কেবল মেডিক্যাল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হলেও, খুব শীঘ্রই সাধারণ ভ্রমণকারীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
ফিরে দেখা: কেন বন্ধ হয়েছিল পরিষেবা?
২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় হাইকমিশনগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর ৮ অগস্ট প্রথমবার ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর আইভিএসি (IVAC) কেন্দ্রগুলি একে একে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দৈনিক ৮,০০০ ভিসার সংখ্যা নেমে এসেছিল মাত্র ১,৫০০-তে। তবে বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় ফের স্বাভাবিক হচ্ছে যাতায়াত।