বাংলাদেশে বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিশেষ করে তারেক রহমানের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছে না দলেরই একাংশ কিংবা প্রভাবশালী কিছু মহল। আর এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই চর্চায় উঠে এসেছে ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’র নাম। কিন্তু কী এই ছায়া মন্ত্রিসভা? কেনই বা এটি নিয়ে এত তোলপাড়?
সহজ কথায়, ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ হলো একটি সংসদীয় প্রথা যেখানে বিরোধী দল সরকারের সমান্তরালে একটি নির্দিষ্ট দল তৈরি করে। সরকারের প্রতিটি মন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দলের একজন ‘শ্যাডো মিনিস্টার’ থাকেন। তাঁদের প্রধান কাজ হলো সরকারের নীতি ও কাজের ভুলত্রুটি ধরা এবং বিকল্প সমাধানের পথ দেখানো। মূলত ব্রিটেন বা কানাডার মতো দেশে এই প্রথা অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে এর আগে এমন কাঠামোর কথা শোনা যায়নি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে এই ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ আসলে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি কেবল সরকারের সমালোচনা নয়, বরং ভবিষ্যতে দেশ চালানোর জন্য একটি যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ টিম তৈরি রাখার কৌশল। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, এই ছায়া মন্ত্রিসভা কি তারেক রহমানের হাত আরও শক্ত করবে, নাকি এটি তাঁকে সরিয়ে অন্য কাউকে সামনে আনার কোনো গোপন নকশা? উত্তর পেতে আপাতত বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের গতিপথের দিকে তাকিয়ে সারা বিশ্ব।