তারাপীঠ তো বহু গিয়েছেন, এবার ঘুরে আসুন কোটাসুরের দ্বারবাসিনী মন্দিরে! চোখের নিমেষে দূর হবে সব মনকষ্ট

তারাপীঠের কোলাহল ছেড়ে যাঁরা একটু নিভৃত, শান্ত এবং রোমাঞ্চকর ইতিহাসের ছোঁয়া পেতে চান, তাঁদের জন্য রাঢ় বাংলার লালমাটির জেলা বীরভূম এক অপার রহস্যের ভান্ডার। রামপুরহাট স্টেশন থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে ময়ূরেশ্বর থানার অন্তর্গত প্রাচীন জনপদ কোটাসুর ইতিহাসের অনেক অজানা অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সুদূর অতীতে এই অঞ্চল পৌরাণিক রাজা কোটেশ্বরের রাজধানী ছিল বলেই এর নাম হয় ‘কোটাসুর’। গ্রামের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে কুলদেবতা মদনেশ্বর শিবের ঐতিহাসিক মন্দির, যা নিয়ে লোকবিশ্বাস রয়েছে যে মহাভারতের যুগে পঞ্চপাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময় স্বয়ং মাতা কুন্তী এই শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
এই প্রাচীন জনপদকে সুরক্ষিত রাখতে অতীতে গড়ে তোলা হয়েছিল এক বিশাল প্রাচীর, যার উত্তর দিকে কোটাসুর বাজার সংলগ্ন তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত মা দ্বারবাসিনী কালী মন্দির। রাজা কোটেশ্বরের আমলেই প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে একসময় চারপাশ জঙ্গল ও ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়ে গেলেও, স্থানীয় এক নিষ্ঠাবান পুরোহিত দুর্গাপুত্র পাণ্ডার প্রচেষ্টায় এবং পরবর্তীতে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে বর্তমান মন্দির নির্মিত হয়। একসময়ে এই স্থানটি তান্ত্রিকদের অন্যতম গোপন ও শক্তিশালী সাধনক্ষেত্র ছিল। আজও প্রতি অমাবস্যায় দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে ভিড় জমান এবং স্থানীয়দের বিশ্বাস, মায়ের দরবারে নিষ্ঠাভরে মানত করলে বহু সংকট ও শারীরিক ব্যাধি দূর হয়।
তবে স্থানীয়দের মনে একটাই আক্ষেপ, বিশ্বখ্যাত মহাপীঠ তারাপীঠের ঠিক পাশেই অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এই ঐতিহাসিক জনপদ পর্যটকদের মানচিত্রে আজও ব্রাত্য রয়ে গেছে। তারাপীঠের বিপুল জনপ্রিয়তার আড়ালে ঢাকা পড়ে রয়েছে কোটাসুরের এই প্রাচীন ঐতিহ্য ও দ্বারবাসিনী মন্দির চত্বর। পর্যটন দফতর বা সরকারের সামান্য নজর পড়লেই তারাপীঠের পাশাপাশি এই প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থানটি একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ইতিহাসপ্রেমী ও পুণ্যার্থীদের কাছে এই লুকিয়ে থাকা রত্নটি উইকএন্ডে ঘুরে আসার এক আদর্শ ঠিকানা, বিশেষ করে কালীপুজোর সময়ে এখানকার আসল রূপ ও উৎসবের আমেজ ভ্রমণপিপাসুদের মন জয় করে নেবে।