তাজপুর, ডানকুনি ও রঘুনাথপুর অর্থনৈতিক করিডর, এবার লজিস্টিক্সকেও শিল্পের মর্যাদা দিল রাজ্য সরকার

পর্যটন খাতের পর এবার লজিস্টিক্স ক্ষেত্রকেও শিল্পের মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবটি পাশ হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে অর্থনীতিবিদ এবং শিল্প মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে, কারণ এটি রাজ্যের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, অনলাইন কেনাকাটা এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে লজিস্টিক্স শিল্পের গুরুত্বকে আরও বাড়ানো। এর ফলে লজিস্টিক্স পার্কের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। এই পার্কগুলোতে পণ্য পরিবহন, মজুতকরণ, প্যাকেজিং এবং সরবরাহ একসঙ্গে করা যাবে, যা সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করবে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তাজপুর, ডানকুনি এবং রঘুনাথপুর অর্থনৈতিক করিডরের আশেপাশে প্রায় ২০০ একর জমি এই শিল্পের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রবন্দর, রেল ও সড়কপথের চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থা পূর্ব ভারতে একটি বড় লজিস্টিক্স হাব তৈরির জন্য আদর্শ।
মন্ত্রিসভার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
লজিস্টিক্স খাতকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভূমি সংস্কার: দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোনাদাঙ্গায় ৩.৮ একর জমির রেকর্ড সংশোধন, বারাখোলায় ডাক্তার দেবী শেঠির হাসপাতালের জন্য ৩০ বছরের জন্য ৩.১৬ একর জমির লিজ নবীকরণ এবং পশ্চিম বর্ধমানের হিরাপুরে ১৯৩.২৯ একর জমি শিল্প উন্নয়নের জন্য পশ্চিমবঙ্গ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডকে ফ্রিহোল্ড করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
আবাসন ও নগরোন্নয়ন: কলকাতার ‘চেতলা আশ্রয়’ প্রকল্পে ৩৬টি এমআইজি ফ্ল্যাট এবং ১৮টি গ্যারেজ/পার্কিং স্পেস ফ্রিহোল্ড ভিত্তিতে বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা মধ্যবিত্তদের আবাসন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে।
কর্মসংস্থান: নিউটাউন-কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে (NKDA) ১৫টি নতুন শূন্য পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়াও, কৃষি আয়কর দপ্তরে ইনস্পেক্টর পদে নিয়োগের নিয়ম সংশোধন করা হয়েছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করবে।
ডিজিটাল নীতি: তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পক্ষ থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ ইনফ্লুয়েন্সার এনগেজমেন্ট নীতি’ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা ডিজিটাল প্রচার ও যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লজিস্টিক্সকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়ায় কর ছাড়, প্রশাসনিক সহায়তা এবং দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন নতুন বিনিয়োগ আসবে, তেমনই হাজার হাজার কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। রাজ্যের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র শিল্প নীতিতেই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।