ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মাদক পাচারকারী সন্দেহে জাহাজ লক্ষ্য করে চালানো হামলায় কমপক্ষে ৩২ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার প্রশান্ত মহাসাগরে চালানো আরেকটি হামলার খবর প্রকাশিত হয়।
৩০ সেকেন্ডের ভিডিও: ড্রোন হামলার বিতর্ক
ট্রাম্প দুটি হামলার প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ‘এক্স’ (X)-এ পোস্ট করেছেন। প্রতিটি ভিডিওতেই দেখা যাচ্ছে, সমুদ্রে চলমান একটি জাহাজ বিস্ফোরণে ধ্বংস হচ্ছে। এই হামলায় কত মাদক বাজেয়াপ্ত হয়েছে বা জাহাজগুলিতে মাদক ছিল—এমন নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রশাসন দেয়নি।
হামলার বিষয়ে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো কঠোর মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে শুল্ক ও জাহাজ হামলা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তিনি বলেন, “প্রশান্ত মহাসাগরে অন্য একটি নৌকায় হামলায় মানুষ মারা গেছে, সেটি ইকুয়েডরীয় বা কলম্বীয় কিনা তা আমরা জানি না। এটি হত্যা। ক্যারিবিয়ান বা প্রশান্ত মহাসাগর যেখানেই হোক, মার্কিন সরকারের কৌশল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।” কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রকও এক পৃথক বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া, যিনি নিজ দেশে গ্যাংদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তিনি ট্রাম্পের মাদকবিরোধী প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
আইনি বিতর্ক ও সেনার উপস্থিতি
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এই হামলা চালানোর আইনি ক্ষমতা তাঁর প্রশাসনের রয়েছে এবং প্রতিটি হামলাই আমেরিকানদের জীবন বাঁচিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় স্থলভাগে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পরিকল্পনার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। তিনি জানান, এমন পদক্ষেপ নিলে প্রশাসন সম্ভবত মার্কিন কংগ্রেসকে জানাবে।
আইনি বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনীর (Coast Guard) মতো মূল সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বদলে কেন সামরিক বাহিনী এই হামলা চালাচ্ছে এবং কেন প্রাণঘাতী হামলা চালানোর আগে জাহাজগুলি থামানোর অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
প্রশান্ত মহাসাগরে এই হামলা এমন সময়ে এলো, যখন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ডেস্ট্রয়ার, F-35 যুদ্ধবিমান, একটি পারমাণবিক সাবমেরিন এবং প্রায় ৬,৫০০ সৈন্য নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে, গত সপ্তাহে ক্যারিবিয়ানে মার্কিন হামলায় বেঁচে যাওয়া দুই কথিত মাদক পাচারকারীকে উদ্ধার করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।