ড্রোন প্রযুক্তির মেধাবী বিজ্ঞানী রাহুল সিংয়ের রহস্যমৃত্যু, শিল্পপতির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ!

গোরখপুরের মদন মোহন মালবীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এমএমএমইউটি) মেধাবী গবেষক ও তরুণ ড্রোন বিজ্ঞানী রাহুল সিংয়ের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। মঙ্গলবার লখনউয়ের গোমতীনগরের একটি হোটেল থেকে রাহুলের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এবার সামনে এল এক ভয়াবহ সত্য। মৃত রাহুলের ভাই রোহিত সিংয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নয়ডার প্রভাবশালী শিল্পপতি চন্দ্রভূষণ মিশ্র এবং তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারায় মামলা রুজু করেছে লখনউয়ের বিভূতিখণ্ড থানা।
মহারাজগঞ্জের সিসওয়া বাজারের বাসিন্দা রাহুল এমএমএমইউটি-তে ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি, শিল্পপতি চন্দ্রভূষণ মিশ্র ও তাঁর পরিবারের ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন, পেশাগত হুমকি এবং আর্থিক চাপই রাহুলকে এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এফআইআর থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে দিল্লিতে এক প্রদর্শনীর সময় রাহুলের সঙ্গে চন্দ্রভূষণের আলাপ হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় ষড়যন্ত্রের জাল।
অভিযোগ, শিল্পপতি রাহুলকে একটি অত্যাধুনিক ড্রোন তৈরির প্রস্তাব দেন, যার বিনিময়মূল্য হিসেবে প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকার চুক্তি সম্পন্ন হয়। রাহুলের অ্যাকাউন্টে ৬২ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে বাকি ২৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু রাহুলের পরিবারের দাবি, শিল্পপতির মূল লক্ষ্য ছিল ড্রোনটির পেটেন্ট নিজের সন্তানদের নামে হাতিয়ে নেওয়া। রাহুল নিজের মেধা ও প্রযুক্তির স্বত্ব ছাড়তে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় মানসিক নিপীড়ন।
রাহুলের ভাইয়ের বয়ান অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত তথ্যের পেটেন্ট জবরদখল করতে শিল্পপতি এবং তাঁর সন্তানেরা রাহুলকে দিনের পর দিন হুমকি দিতে থাকেন। হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে রাহুলকে অপহরণ এবং খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিল্পপতি কিছু দুষ্কৃতীকে নিয়ে রাহুলের বাড়িতে গিয়ে অশালীন আচরণ করেন এবং টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এর আগেই, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বস্তি নগর থানায় রাহুলের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতারণার মামলা দায়ের করেন ওই শিল্পপতি, যা রাহুলকে চরম অবসাদের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
বর্তমানে রাহুল সিংয়ের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। চিকিৎসকদের একটি প্যানেল ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে হার্ট এবং ভিসেরা নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হজরতগঞ্জের এসিপি সৌম্য পান্ডে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেধাবী এক তরুণ বিজ্ঞানীর এমন অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিক্ষামহলে।