তাইওয়ান প্রণালীতে অশান্তির মেঘ যেন কাটতেই চাইছে না। রবিবার সকালে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (MND) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাইওয়ান দ্বীপের চারপাশে চিনের ৬টি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি সরকারি জাহাজ ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। যদিও এই সময়ের মধ্যে চিনা যুদ্ধবিমানের কোনো অনুপ্রবেশ রেকর্ড করা হয়নি, তবে সমুদ্রপথে চিনের এই সক্রিয়তা তাইওয়ানের নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং পালটা ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের নৌবাহিনী ও উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে হাই অ্যালার্টে রেখেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চিন তাইওয়ানকে ঘিরে তাদের সামরিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে। বিশেষ করে আমেরিকার সঙ্গে তাইওয়ানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এবং নতুন প্রতিরক্ষা বাজেটের ঘোষণার পর থেকেই বেজিংয়ের এই আগ্রাসী মনোভাব স্পষ্ট।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একে চিনের ‘গ্রে জোন’ (Gray Zone) কৌশল বলা হয়। সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা না করে বারবার সামরিক উপস্থিতি দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে দুর্বল করা এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য। ২০২৬-এর এই উত্তপ্ত আবহে তাইওয়ান প্রণালীতে চিনের এই ঘনঘন আনাগোনা এশিয়ায় বড় কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত আন্তর্জাতিক মহল।