২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনে একের পর এক রদবদল ঘটিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এবার চমকপ্রদভাবে বদলির কোপ পড়ল খোদ নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের ৫ জন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন একজন হেভিওয়েট ডেপুটি সিইও-ও।
কারা হলেন অপসারিত? সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কলকাতার দফতর থেকে যে ৫ জনকে সরানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম হলো ডেপুটি সিইও অমিতজ্যোতি ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কমিশনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও আরও চারজন আধিকারিককে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে একে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবেই দাবি করা হচ্ছে, তবে ভোটের ঠিক আগে এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
কেন এই পদক্ষেপ? সাধারণত নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশন বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক (DM) বা পুলিশ সুপারদের (SP) বদলি করে থাকে। কিন্তু খোদ কমিশনের নিজস্ব দফতরের আধিকারিকদের সরানোর পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে: ১. দীর্ঘদিনের অবস্থান: কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আধিকারিক একই পদে দীর্ঘদিন থাকলে তাঁকে নির্বাচনের সময় সরানো হতে পারে। ২. নিরপেক্ষতা সুনিশ্চিত করা: রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো অভিযোগ বা নিরপেক্ষতা নিয়ে বিন্দুমাত্র প্রশ্ন ওঠার সুযোগ দিতে চাইছে না কমিশন। ৩. নতুন রক্ত সঞ্চালন: নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় কাজের গতি বাড়াতে দক্ষ এবং নতুন আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া: কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বেছে বেছে দক্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দিয়ে কাজের ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনের যেকোনো পদক্ষেপই অভিনন্দনযোগ্য।
২০২৬-এর নির্বাচন যে আগের সব রেকর্ড ভেঙে অত্যন্ত কড়াকড়ি হতে চলেছে, কমিশনের এই অভ্যন্তরীণ রদবদল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, এই নতুন দল নিয়ে ভোট বৈতরণী কতটা মসৃণভাবে পার করতে পারে নির্বাচন কমিশন।