নিয়ম আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যখন মানবিকতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন সমাজ কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে— তার সাক্ষী থাকল ওড়িশার কেওনঝড় জেলা। মৃত দিদির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকা তুলতে না পেরে, শেষ পর্যন্ত কবর খুঁড়ে দিদির কঙ্কাল (Skeleton) নিয়ে সরাসরি ব্যাংকে হাজির হলেন এক ব্যক্তি। হাড়হিম করা এই দৃশ্য দেখে ব্যাংক কর্মী থেকে শুরু করে গ্রাহক— সকলেই আতঙ্কে ও বিস্ময়ে থমকে যান।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ওড়িশার কেওনঝড় জেলার পাটনা ব্লকের মালিপাসি এলাকার। স্থানীয় সূত্রে খবর, ৫৯ বছর বয়সী জিতু মুন্ডা তাঁর দিদি কালরা মুন্ডার সঞ্চিত টাকা তোলার জন্য গত দুই মাস ধরে ‘ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংক’-এর চক্কর কাটছিলেন। গত ২৬ জানুয়ারি তাঁর দিদি মারা যান। কিন্তু অশিক্ষিত এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের জিতু মুন্ডার কাছে ছিল না কোনো ডেথ সার্টিফিকেট বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনি নথি।
“অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে নিয়ে আসুন!”
জিতুর অভিযোগ, তিনি বারবার ব্যাংক কর্মীদের জানিয়েছেন যে তাঁর দিদি মারা গিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নাকি তাঁকে সাফ জানিয়ে দেয়, “টাকা তুলতে হলে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে সশরীরে হাজির করতে হবে।”
বিস্ফোরক বয়ান: হতাশ ও ক্ষুব্ধ জিতু মুন্ডা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমি বারবার বলেছি দিদি মরে গেছে। ওরা শোনেনি, বলেছে দিদিকে নিয়ে আসতে। তাই বাধ্য হয়ে কবর খুঁড়ে দিদির কঙ্কাল বস্তায় ভরে ব্যাংকে নিয়ে এসেছি। এবার তো ওরা বিশ্বাস করবে যে দিদি নেই!”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে:
জিতু মুন্ডা একজন নিরক্ষর মানুষ, তিনি ‘নমিনি’ বা ‘লিগ্যাল হেয়ার’ (Legal Heir) সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
ব্যাংকের কর্মীরা তাঁকে সঠিক নিয়ম বুঝিয়ে না বলে বারবার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
পুলিশ কঙ্কালটি উদ্ধার করে পুনরায় সমাধিস্থ করার ব্যবস্থা করেছে।
সরকারি প্রতিক্রিয়া: ওড়িশার মন্ত্রী সুরেশ পূজারি এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন এখন জিতু মুন্ডাকে আইনি নথি তৈরি করে টাকা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
সম্পাদকের বক্তব্য: ডিজিটাল ইন্ডিয়া বা আধুনিক ব্যাংকিং পরিষেবার এই যুগে একজন নিরক্ষর মানুষের সাথে এহেন আচরণ প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই প্রকট করে তোলে। নিয়ম বড় নাকি মানুষের অসহায়তা— এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।





