ডেঙ্গুতে কমছে প্লেটলেট? ভুলেও আতঙ্কে কাঁপবেন না! চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা: আসল বিপদ অন্য জায়গায়

বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় আতঙ্ক তৈরি করে ‘প্লেটলেট’ (Platelet) বা অনুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া। রক্তের প্লেটলেট কাউন্ট দেড় লাখের নিচে নামলেই স্বজনদের রক্তচাপ বেড়ে যায়, শুরু হয় হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে—শুধুমাত্র প্লেটলেটের সংখ্যা দেখেই ডেঙ্গু রোগীর শারীরিক অবস্থা বিচার করা মারাত্মক ভুল! প্লেটলেট কমার চেয়েও বেশ কিছু বিপজ্জনক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলোতে দ্রুত নজর দেওয়া জরুরি।
কেন ডেঙ্গুতে হু-হু করে কমে প্লেটলেট? দ্বারকার আকাশ হেলথকেয়ারের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. বিক্রম জিৎ সিং জানান, ডেঙ্গু ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করার পর মূলত বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জাকে (যেখানে রক্তকণিকা ও প্লেটলেট তৈরি হয়) আক্রমণ করে। এর ফলে প্লেটলেটের উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
এর পাশাপাশি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune System) অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণেও রক্তে থাকা প্লেটলেট দ্রুত ধ্বংস হতে থাকে। সাধারণ নিয়মে, ডেঙ্গু সংক্রমণের ৩ থেকে ৮ দিনের মাথায় প্লেটলেটের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হ্রাস পায়।
প্লেটলেটের চেয়েও যেসব লক্ষণে নজর দেওয়া বেশি জরুরি:
ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা: ডেঙ্গু রোগীর শরীর থেকে দ্রুত পানি কমে যায়। তাই প্লেটলেট গণনার চেয়ে রোগীর শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রাখা বেশি জরুরি।
অনিয়ন্ত্রিত রক্তপাত: মাড়ি, নাক বা মলদ্বারের মাধ্যমে রক্তপাত হচ্ছে কি না, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।
রক্তচাপ (Blood Pressure) কমে যাওয়া: রোগীর ব্লাড প্রেশার হঠাৎ মারাত্মক কমে গেলে তা ‘ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম’-এর ইঙ্গিত হতে পারে।
অন্যান্য উপসর্গ: অতিরিক্ত পেটে ব্যথা, ক্রমাগত বমি হওয়া কিংবা প্রচণ্ড দুর্বলতা দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের বিশেষ বার্তা: চিকিৎসকদের মতে, প্লেটলেট কাউন্ট ৪০,০০০ বা তার কিছুটা নিচে নেমে গেলেও যদি রোগীর শরীরে কোনো রক্তপাতের লক্ষণ না থাকে এবং ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক থাকে, তবে কেবল আতঙ্কের বশে প্লেটলেট চাপানোর (Transfusion) কোনো প্রয়োজন হয় না। প্লেটলেটের পেছনে না ছুটে রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার, ডাবের পানি ও ওআরএস (ORS) খাইয়ে হাইড্রেটেড রাখাই সুস্থ হয়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি।