মহারাষ্ট্রে জোটের অন্দরেই ধুন্ধুমার! ভোটের মুখে ফাটল মহাযুতি ও MVA-তে, নিজস্ব দলের প্রধানদেরই খোলস ছাড়িয়ে খোলা চ্যালেঞ্জ বিদ্রোহী নেতাদের

মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদের (MLC) পাঁচটি আসনের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরে অসন্তোষ ও সংঘাত ততটাই প্রকট হচ্ছে। শাসক জোট ‘মহাযুতি’ এবং বিরোধী জোট ‘মহা বিকাশ আগাড়ি’ (MVA)—দুই শিবিরেরই একাধিক ক্ষুব্ধ নেতা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। হঠাৎ এই অভ্যন্তরীণ ফাটলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উভয় জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। আগামী ৯ই অক্টোবর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমা পার হলেই নির্বাচনের আসল চিত্র পরিষ্কার হবে।
যে পাঁচটি আসনে নির্বাচন হতে চলেছে—তার মধ্যে রয়েছে পুণে, নাগপুর ও ঔরঙ্গাবাদ স্নাতক কেন্দ্র এবং পুণে ও অমরাবতী শিক্ষক কেন্দ্র। প্রতিটি আসনেই দেখা যাচ্ছে জটিল ও ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুকরণ।
নাগপুরে বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ প্রাক্তন বিধায়কের নাগপুর গ্র্যাজুয়েটস আসনে বিজেপি সুধাকর কোহলেকে টিকিট দিয়েছে। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি বিজেপিরই প্রাক্তন বিধায়ক অধ্যাপক অনিল সোলে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না। এই আসনে কংগ্রেসের অভিজিৎ ওয়ানজারি ছাড়াও শারদ পাওয়ারের এনসিপি (NCP-Sharadchandra Pawar) গোষ্ঠীর কারালে গুরুজিও লড়াইয়ে নেমেছেন। ফলে নাগপুরে একটি বহুমুখী ও চরম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ তৈরি হয়েছে।
অমরাবতীতে শিন্ডে গোষ্ঠী বনাম শিন্ডে গোষ্ঠী অমরাবতী শিক্ষক কেন্দ্রে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা বর্তমান বিধায়ক কিরণ সারনাইককে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেখানে দলেরই প্রাক্তন বিধায়ক অধ্যাপক শ্রীকান্ত দেশপান্ডে বিদ্রোহী হয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অটল। ফলে নিজের দলেরই প্রাক্তন বিধায়কের থেকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন শিন্ডে গোষ্ঠীর অফিসিয়াল প্রার্থী।
পুণের স্নাতক আসনে টিকিট না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ পুণে স্নাতক কেন্দ্রেও বিজেপির অভ্যন্তরে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। পার্টি থেকে ডক্টর স্মিতা যাদবকে প্রার্থী করা হলেও, দলেরই শরদ লাড ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মনোনয়ন দাখিল করেন। বিজেপি নেতা রবীন্দ্র চভাণ যদিও দাবি করেছেন শরদ লাড ডামি প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন এবং দলে কোনো বিদ্রোহ নেই, তবুও পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। পাশাপাশি, শিল্পমন্ত্রী উদয় সামন্তের ব্যক্তিগত সহকারী সচিন সানপ-ও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
পুণে শিক্ষক আসনে মহাযুতির দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুণে শিক্ষক নির্বাচন কেন্দ্রে মহাযুতির অন্দরে সরাসরি লড়াই বেঁধেছে। বিজেপির পাশাপাশি শিন্ডে গোষ্ঠীর শিবসেনাও নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করাচ্ছে। দুই শরিকের এমন মুখোমুখি অবস্থান প্রকাশ্য সংঘাতের রূপ নিয়েছে।
বর্তমানে উভয় জোটের শীর্ষ নেতারাই বিদ্রোহী নেতাদের বুঝিয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করানোর জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। ৯ই অক্টোবরের চূড়ান্ত তালিকার পরেই স্পষ্ট হবে—বিদ্রোহ সামলে কে শেষ হাসি হাসবে।