ডুয়ার্সে ‘নল রাজার গড়’-এর নাম বদলে নতুন নামকরণ, পর্যটনে বড় পদক্ষেপ

পর্যটকদের কাছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর করতে আলিপুরদুয়ারের চিলাপাতার জঙ্গলে অবস্থিত ‘নল রাজার গড়’-এর নাম বদল করা হলো। এখন থেকে এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য ‘মহারাজা নরনারায়ণ গড়’ নামে পরিচিত হবে।
মঙ্গলবার ডুয়ার্স কন্যাতে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক আর বিমলা, ইতিহাসবিদ ড. আনন্দ গোপাল ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গ রাজবংশী উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বোর্ডের চেয়ারম্যান বংশীবদন বর্মন, আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
কেন এই নামকরণ?
ঐতিহাসিকদের মতে, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের চিলাপাতার জঙ্গলে অবস্থিত এই গড় স্থানীয়ভাবে ‘নল রাজার গড়’ নামে পরিচিত হলেও, এর সঙ্গে কোচবিহারের রাজা নরনারায়ণের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। এই গড়টি মহারাজা নরনারায়ণের ভাই, সেনাপতি চিলা রায় তৈরি করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই নামের ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে বিভ্রান্তি চলছিল। সেই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য এবং সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এই নতুন নামকরণ করা হয়েছে।
বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল জানান, গত ১৬ জুন তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। এরপরই রাজ্য হেরিটেজ কমিশন এই নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়।
পর্যটনের বিকাশে নতুন উদ্যোগ
‘মহারাজা নরনারায়ণ গড়’-কে নতুন করে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটিকে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এখানে একটি ওপেন এয়ার মিউজিয়াম সহ বিভিন্ন আধুনিক ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে শুধুমাত্র পর্যটন শিল্পেরই বিকাশ ঘটবে না, বরং পর্যটকরা এই অঞ্চলের আসল ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।
বৈঠক শেষে ইতিহাসবিদ আনন্দ গোপাল ঘোষ জানান, এই নাম পরিবর্তন সম্পর্কে একটি বুকলেট প্রকাশ করা হবে, যেখানে পুরো ইতিহাস এবং পরিবর্তনের কারণ বিস্তারিত থাকবে।