ডিজে বাজিয়ে হগ মার্কেটে জেসিবি-রাজ! পুলিশের ‘নীরবতা’ নিয়ে ক্ষুব্ধ আদালত, বড় বিপাকে অভিযুক্তরা?

কলকাতার হৃদপিণ্ড নিউ মার্কেটে বুলডোজার চালিয়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস ও একটি মাংসের দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় এবার বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপের দাবি উঠল। এই নজিরবিহীন তাণ্ডবের প্রতিবাদে এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন এক আইনজীবী। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

মামলাকারী আইনজীবীর মূল প্রশ্নটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক— কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে, কলকাতা পুরসভার সদর দপ্তরের ঢিলছোড়া দূরত্বে যদি প্রকাশ্যে বুলডোজার নিয়ে এমন ধ্বংসলীলা চালানো যায়, তবে রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ সময় ধরে জেসিবি মেশিন এনে, তীব্র আওয়াজে ডিজে বাজিয়ে ভাঙচুর চললেও পুলিশ কেবল ‘নীরব দর্শক’ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মামলায় ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

এই মামলাটি কেবল নিউ মার্কেটের ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাগুলিকেও আদালতের নজরে আনা হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও বিজেপির নতুন নেতৃত্ব বারবার দাবি করছেন যে, হিংসা কঠোর হাতে দমন করা হবে, তবুও গ্রাউন্ড রিয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।

এদিকে, নিউ মার্কেটকাণ্ডে পুলিশি তৎপরতাও বেড়েছে। বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ মোট আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, দাঙ্গা এবং বেআইনি জমায়েত-সহ একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই এলাকায় বিজেপির বিজয় মিছিলের অনুমতি থাকলেও জেসিবি বা বুলডোজার ব্যবহারের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভিডিও ফুটেজ দেখে বুলডোজারের মালিক ও চালকের খোঁজ চালাচ্ছে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ।

কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ লালবাজারে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, খাস কলকাতায় আর কখনও বুলডোজার নিয়ে কোনও মিছিল করতে দেওয়া হবে না। যারা এই ধরনের নির্মাণকাজের যন্ত্র মিছিলে ভাড়া দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাও ভবানী ভবন থেকে একই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মঙ্গলবার তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে পুলিশের উপস্থিতিতে ভাঙচুরের অভিযোগ তোলার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। এখন দেখার, হাই কোর্ট এই ‘বুলডোজার কালচার’ রুখতে কী রায় দেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy