আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব বেতার দিবস। ১৯৪৬ সালের আজকের দিনেই পথ চলা শুরু করেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ রেডিও। পরবর্তীতে ইউনেস্কো ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়। কিন্তু আধুনিক ইন্টারনেটের যুগেও কেন রেডিওর মাহাত্ম্য ম্লান হয়নি? তার উত্তর লুকিয়ে আছে ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ে—১৯৪৭ সালের দেশভাগ।
দেশভাগের সেই ভয়াবহ দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলার সময় যখন খবরের কাগজ বা ডাকব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, তখন ছিন্নমূল মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’। নিখোঁজ আত্মীয়দের নাম ঘোষণা থেকে শুরু করে বিশেষ ট্রেনের সময়সূচি—সবই ভেসে আসত বেতার তরঙ্গে। জওহরলাল নেহেরু ও মহম্মদ আলি জিন্নার শান্তির আবেদন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল এই রেডিওই। উদ্বাস্তু শিবিরে একটি রেডিওকে ঘিরে যখন শয়ে শয়ে মানুষ জড়ো হতেন, তখন সেটি শুধু তথ্য নয়, বরং বেঁচে থাকার রসদ জোগাত।
দুর্যোগ মোকাবিলা, শিক্ষা বিস্তার ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে তথ্য পৌঁছে দিতে রেডিও আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ডিজিটাল বিপ্লবের মাঝেও রেডিওর সেই মানবিক আবেদন ও সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাতেই পালিত হচ্ছে এবারের বিশ্ব বেতার দিবস।