ডিজিটাল গোল্ডের নামে সর্বস্বান্ত! নয়ডার ব্যবসায়ীর ৩.৬ কোটি টাকা হাতাল সাইবার জালিয়াতরা

সাইবার প্রতারণার এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল উত্তরপ্রদেশের নয়ডায়। ডিজিটাল সোনা বা গোল্ড ট্রেডিংয়ের নামে এক চামড়া ব্যবসায়ীকে প্রলুব্ধ করে দীর্ঘ পাঁচ মাসে প্রায় ৩.৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে নয়ডাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই নয়ডা সাইবার ক্রাইম পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের শেষ দিকে। নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর বাসিন্দা রবি, যিনি পেশায় চামড়ার ব্যাগ ও ওয়ালেট রপ্তানিকারক, ৩১শে ডিসেম্বর একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পান। সেখানে শেয়ার ট্রেডিং সংক্রান্ত প্রলোভন দেখানো হয়। এরপর ‘রিয়া’ নামে এক তরুণী নিজেকে সাংহাই গোল্ড এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে রবির সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাকে ‘এসজিএস’ (SGS) নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ওই গ্রুপে ডিজিটাল গোল্ড ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে প্রচুর মুনাফা লাভের ভুয়ো স্ক্রিনশট শেয়ার করা হতো, যা রবির মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
প্রতারণার এই জালে রবি প্রথম পা রাখেন ১৯শে এপ্রিল। ওই তরুণীর পরামর্শে একটি ট্রেডিং অ্যাপ ডাউনলোড করে ৪৪,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। মজার বিষয় হলো, মাত্র দুই দিন পরেই অ্যাপে ১৯,০০০ টাকা মুনাফা দেখায় এবং সেই টাকা সহজেই তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। এই সামান্য লাভের প্রলোভনই রবির মনে প্ল্যাটফর্মটির প্রতি আকাশচুম্বী বিশ্বাস তৈরি করে। এরপর থেকে শুরু হয় বড় অঙ্কের টাকা হাতানোর খেলা। ২০২৬ সালের ২৬শে মে পর্যন্ত রবি মোট ২১টি লেনদেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৩.৬ কোটি টাকা স্থানান্তর করেন।
অ্যাপের ড্যাশবোর্ডে রবির বিনিয়োগ ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু গল্পের মোড় ঘোরে তখনই, যখন তিনি তার জমানো টাকা তোলার চেষ্টা করেন। অভিযুক্ত তরুণী তখন টাকা তোলার পরিবর্তে তাকে আরও বিনিয়োগ করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত, অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ওই তরুণী যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেন। বুঝতে পারেন, তিনি বড় ধরনের সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।
প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রবি দ্রুত ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টাল এবং নয়ডা সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। নয়ডার ডিসিপি (সাইবার সিকিউরিটি) জানিয়েছেন, যে সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল, সেগুলির নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সাইবার পুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ বিজয় সিং রানার মতে, এই প্রতারকরা অত্যন্ত ধূর্ত। প্রথমে অল্প টাকা বিনিয়োগ করিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে, তারপর বড় অঙ্কের টোপ দিয়ে মানুষের সঞ্চয় লুটে নেয়। তিনি সাধারণ মানুষকে অপরিচিত হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা প্রলোভন থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ৩.৬ কোটি টাকা হাতানোর এই ঘটনা যেন ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সুরক্ষার অভাব ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।