ডানকুনি থেকে সুরাট: মমতার রাজ্যে মোদীর বিশাল ‘গিফট’, বদলে যাবে বাংলার অর্থনীতির মানচিত্র!

কেন্দ্রীয় বাজেটে এবার বাংলার জন্য সবথেকে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ডানকুনি-সুরাট ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর’ (DFC)। আপাতদৃষ্টিতে এটি কেবল একটি রেললাইন মনে হলেও, বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন বাংলার কৃষিক্ষেত আর গুজরাটের হিরে-বস্ত্র বাজারের মধ্যে এক ‘সমৃদ্ধির সেতু’। ২০৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্প শুধু পণ্য পরিবহণ নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ভোল বদলে দিতে চলেছে।
বর্তমানে কলকাতা থেকে সুরাট যেতে মালবাহী ট্রেনের প্রায় ৩০ থেকে ৩৩ ঘণ্টা সময় লাগে। যাত্রীবাহী ট্রেনকে পথ ছেড়ে দিতে গিয়ে মাঝপথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় পণ্যবাহী ওয়াগনগুলিকে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে ডিএফসি। এই করিডরটি পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট—এই ছয়টি রাজ্যের ওপর দিয়ে যাবে। ফলে ট্রানজিট সময় অর্ধেক হয়ে যাবে, যা ব্যবসায়ীদের লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
বাংলার জন্য কেন এটি সোনায় সোহাগা?
বস্ত্রশিল্পের বিপ্লব: কলকাতার দক্ষ কারিগরদের তৈরি পোশাক এখন নিমেষের মধ্যে পৌঁছে যাবে ভারতের বস্ত্র রাজধানী সুরাটে। সরাসরি এবং দ্রুত সংযোগ থাকায় স্থানীয় কারিগররা বিশ্ববাজারের ছোঁয়া পাবেন।
হিরে ও গয়না সংযোগ: সুরাটের হিরে শিল্পের সাথে বাংলার স্বর্ণকারদের নিবিড় যোগ রয়েছে। এই করিডরের ফলে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং তৈরি গয়না আদান-প্রদান অনেক সহজ ও সস্তা হবে।
কৃষি পণ্যের রমরমা: বাংলার বিখ্যাত আম বা টাটকা সবজি পচে যাওয়ার ভয় ছাড়াই পৌঁছে যাবে পশ্চিম ভারতের বাজারে। ফলে কৃষকরা ফসলের ‘বিশ্বমানের’ দাম পাবেন।
যাত্রী ও অর্থনীতির লাভ: মালবাহী ট্রেনের জন্য আলাদা ট্র্যাক হওয়ায় মূল রেললাইন ফাঁকা হবে, ফলে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি আর মাঝপথে আটকে থাকবে না। অন্যদিকে, ডানকুনি একটি আন্তর্জাতিক লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে, যা বিশ্ববিখ্যাত সংস্থাগুলিকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। এর ফলে রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। ‘সোনার বাংলা’ গড়ার পথে এই রেল করিডর এক শক্তিশালী মাইলফলক হতে চলেছে।