ডাইনি সন্দেহে বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা! দক্ষিণ দিনাজপুরে শিহরিত জনতা

একবিংশ শতাব্দীতেও কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে মুক্ত হতে পারল না সমাজ। ডাইনি অপবাদ দিয়ে এক আদিবাসী বৃদ্ধাকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। শিহরিত করার মতো এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর থানার অন্তর্গত শিরশি গ্রাম পঞ্চায়েতের নাহিট পশ্চিম পাড়া এলাকায়। এই মধ্যযুগীয় বর্বরতায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলায়। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে হরিরামপুর থানার পুলিশ।

মৃত বৃদ্ধার নাম রুমকি মুর্মু (৬৫)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপূজার প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা চলাকালীন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় অভিযুক্ত জয়রাম কিস্কু হঠাৎ করেই ওই বৃদ্ধাকে ‘ডাইনি’ বলে অপবাদ দিতে শুরু করে এবং আকস্মিকভাবে তাঁর ওপর চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বৃদ্ধাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হরিরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মৃতের পরিবার। মৃতার ছেলে গুড়ুম কিস্কু বলেন, “আমি কাজের সূত্রে বাইরে ছিলাম। বোন ফোন করে জানায় মাকে জয়রাম মারধর করছে। আমি দ্রুত বাড়ি পৌঁছে পাড়ার লোকজনকে নিয়ে হাসপাতালে যাই, কিন্তু ডাক্তার মাকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ পর্যন্ত শুনিনি ডাইনি বলে কিছু হয়। আমি অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তি চাই।” স্থানীয় বাসিন্দা নিমু সরেন জানান, শিক্ষার অভাবে সমাজের কিছু মানুষ আজও এই ধরনের কুপ্রথায় বিশ্বাস করে, যার ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।

ঘটনায় মৃতার ছেলের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত জয়রাম কিস্কুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তাঁকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গঙ্গারামপুর মহকুমার পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার জানান, কুপ্রথার বলি হয়েছেন ওই বৃদ্ধা। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে, এলাকায় কুসংস্কারবিরোধী সচেতনতা ছড়াতে শীঘ্রই বিশেষ শিবির করবে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ।