২৪টি এসি থাকা সত্ত্বেও কেন দমবন্ধ পরিস্থিতি? চোরবাগান তদন্তে মিলল বড় আপডেট!

বৃহস্পতিবার কলকাতার চোরবাগানের দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করলেন ফরেন্সিক আধিকারিকরা। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ওই পুজো মণ্ডপে মোট ২৪টি এসি (এয়ার কন্ডিশনার) বসানো হয়েছিল, যার সম্মিলিত ক্ষমতা বা ক্যাপাসিটি ছিল ১৩৪ টন। তবে প্রাথমিক তদন্ত ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, অতিরিক্ত জনসমাগম ও ভিড়ের চাপ সামাল দেওয়ার জন্য এই পরিমাণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমস্ত এসি সচল থাকা সত্ত্বেও মণ্ডপের বিশাল আয়তন ও জনস্রোতের জেরে ভিতরে মারাত্মক রকম দমবন্ধ করা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সূত্রের খবর, ফরেন্সিক দল তাদের চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টে এই মারাত্মক গাফিলতি ও ত্রুটির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চলেছে। এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ৬ দিন পর আগামী শনিবার চোরবাগানের প্রতিমা বিসর্জনের দিন ধার্য করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন এই থিম পুজোর সমস্ত ইতি টানার দাবি তুলছেন।

অন্যদিকে, চোরবাগানকাণ্ডের তদন্তে গতি এনেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৬০ জনের বিশদ বয়ান সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন হোমগার্ড, স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীর পাশাপাশি স্থানীয় বহু বাসিন্দার বয়ানও নথিবদ্ধ করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার সেই ভয়াল মুহূর্তে ঠিক কী ধরনের ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষ কী শুনেছিলেন, তার উত্তর খুঁজতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। জানা গিয়েছে, ধৃত দুই ঘোষক সেন্টু ও কুশলের ভয়েস স্যাম্পল বা কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে পুলিশ। ঘটনার সময়ের একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও অডিও ক্লিপ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। অন্তত ৩ থেকে ৪ জনের কাছ থেকে মাইকের অডিও-ভিডিও সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে ধৃত দুই অভিযুক্তের কণ্ঠস্বর হুবহু মিলে যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। সামগ্রিক এই তদন্ত প্রক্রিয়া যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।